সর্বশেষ
ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬

এপস্টেইন নথি ফাঁস: বিশ্বজুড়ে আলোড়ন, প্রভাবশালীদের নাম ঘিরে বিতর্ক।

Spread the love

মোঃ শাহনুর রহমান লিমন, স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকাঃ

মার্কিন যৌন অপরাধী প্রয়াত জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লাখ লাখ নতুন নথি, ছবি ও ভিডিও প্রকাশের পর বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস) গত ৩০ জানুয়ারি প্রায় ৩০ লাখ পৃষ্ঠা নথি, ১ লাখ ৮০ হাজার ছবি এবং ২ হাজার ভিডিও প্রকাশ করে, যা আইনি সময়সীমা অতিক্রম করার প্রায় ছয় সপ্তাহ পর জনসমক্ষে আসে।

প্রকাশিত নথিতে সাবেক ও বর্তমান বহু প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইবরাহিম, মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস, ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স অ্যান্ড্রু, এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন। বিশেষ করে ট্রাম্পের নাম একাধিকবার উল্লেখ থাকায় বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।নথিগুলোতে এপস্টেইনের কারাবন্দি জীবনের বিস্তারিত তথ্য, তার মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত প্রতিবেদন, মৃত্যুর পরিস্থিতি এবং তার সহযোগী গিসলেন ম্যাক্সওয়েলের বিরুদ্ধে তদন্তসংক্রান্ত দলিল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ম্যাক্সওয়েলকে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের পাচারে সহায়তার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। এছাড়া এপস্টেইন ও বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির মধ্যে আদানপ্রদান করা ইমেইলের তথ্যও প্রকাশ পেয়েছে।ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বীকার করেছেন যে একসময় এপস্টেইনের সঙ্গে তার বন্ধুত্ব ছিল, তবে তিনি দাবি করেছেন এই সম্পর্ক বহু বছর আগেই শেষ হয়েছে এবং এপস্টেইনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন না।এদিকে ভারতের সরকার নরেন্দ্র মোদিকে জড়িয়ে ওঠা অভিযোগগুলোকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৩১ জানুয়ারি এক বিবৃতিতে জানায়, প্রকাশিত ইমেইলগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা নেই।মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইবরাহিমও এপস্টেইনের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক থাকার অভিযোগ নাকচ করেছেন।

১৪ বছর পুরোনো একটি ইমেইলে নিজের নাম আসার পর তিনি সামাজিক মাধ্যমে জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি আগে অবগত ছিলেন না।এপস্টেইন নথিতে নাম ওঠায় যুক্তরাজ্যের সাবেক মন্ত্রী লর্ড পিটার ম্যান্ডেলসন লেবার পার্টি থেকে পদত্যাগ করেছেন। যদিও পদত্যাগের পরও তার বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে।চাঞ্চল্যকরভাবে প্রকাশিত নথিতে আরও উল্লেখ রয়েছে সৌদি আরবের মক্কায় অবস্থিত পবিত্র কাবা শরিফের গিলাফের (কিসওয়া) কাপড় এক নারীর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়েছিল এবং পরবর্তীতে তা এপস্টেইনের কাছে পৌঁছায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *