ডেক্স রিপোর্ট, newsbd24live:
ইরানে মার্কিন ও ইসরাইলি বিমান হামলার প্রতিবাদে পাকিস্তানে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভ ভয়াবহ সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। রোববার (১ মার্চ) করাচির মাই কোলাচি রোডে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেট অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিলকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটে। এতে এখন পর্যন্ত অন্তত ১০ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
সিভিল হাসপাতাল করাচির (সিএইচকে) ট্রমা সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ড. মোহাম্মদ সাবির মেমন গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, সংঘর্ষের ঘটনায় ১০ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং অন্তত ৩১ জন গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিহতদের প্রত্যেকের শরীরেই আগ্নেয়াস্ত্রের গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে।
সূত্রমতে, তেহরানে মার্কিন-ইসরাইলি বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে পাকিস্তানজুড়ে চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। রোববার দুপুরে করাচিতে বিক্ষোভকারীরা মার্কিন কনস্যুলেটের নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ ও আধা-সামরিক বাহিনী টিয়ারগ্যাস ও লাঠিচার্জ শুরু করলে শুরু হয় উভয়পক্ষের সংঘর্ষ।
সিন্ধু সরকারের পক্ষ থেকে এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে। তবে সরকারি পরিসংখ্যানে নিহতের সংখ্যা ছয় জন বলে দাবি করা হয়েছে। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এবং দায়ীদের শনাক্ত করতে একটি উচ্চ-পর্যায়ের যৌথ তদন্ত দল (JIT) গঠন করার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সিন্ধুর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জিয়াউল হাসান লাঞ্জার জানিয়েছেন, কাউকে আইন নিজের হাতে তুলে নিতে দেওয়া হবে না এবং পুলিশের কাছে দ্রুত এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন তলব করা হয়েছে।
করাচির পাশাপাশি লাহোর ও ইসলামাবাদেও চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। লাহোরে মার্কিন কনস্যুলেটের দেয়ালে উঠে বিক্ষোভ করায় একজনকে আটক করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইসলামাবাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস পাকিস্তানে অবস্থানরত তাদের নাগরিকদের সতর্ক থাকার এবং জনসমাগম এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে করাচির মাই কোলাচি রোডসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের যাতায়াতের জন্য বিকল্প রুট হিসেবে জিন্নাহ ব্রিজ ব্যবহারের নির্দেশনা দিয়েছে ট্রাফিক পুলিশ।

