সর্বশেষ
ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬

ইরানে বিক্ষোভ ও ফাঁসির প্রস্তুতি: ট্রাম্পের হুমকি, পাহলভির সঙ্গে গোপন বৈঠক।

Spread the love

মোঃ শাহনুর রহমান লিমন, স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকাঃ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর হুঁশিয়ারির মধ্যেই আজ বুধবার এক বিক্ষোভকারীকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। একই সঙ্গে ইরানি জনগণকে সরকারবিরোধী আন্দোলন চালিয়ে যেতে আহ্বান জানিয়ে ট্রাম্প বলেছেন, “সহায়তা আসছে।” এই প্রেক্ষাপটে হোয়াইট হাউসের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ গোপনে ইরানের নির্বাসিত সাবেক যুবরাজ রেজা পাহলভির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বলে জানিয়েছে অ্যাক্সিওস।

এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানে চলমান বিক্ষোভ ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েই এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পাহলভি দীর্ঘদিন ধরে দেশের বাইরে থেকে আন্দোলনে সমর্থন দিয়ে আসছেন এবং সাম্প্রতিক সময়ে তিনি সরকারবিরোধী বিক্ষোভের প্রতীকী নেতৃত্বে উঠে এসেছেন।মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, ২৬ বছর বয়সী এরফান সোলতানিকে যথাযথ বিচার ছাড়াই ফাঁসি দেয়ার প্রস্তুতি চলছে। তাকে গত সপ্তাহে তেহরানের কাছে কারাজ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, আজই ইরানে প্রথম কোনো বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে পারে।এদিকে চলমান দমন-পীড়নে নিহতের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য আসছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, এখন পর্যন্ত অন্তত আড়াই হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। তবে এই সংখ্যা নির্ভরযোগ্য সূত্রে নিশ্চিত করা যায়নি। ইরানি কর্তৃপক্ষ বরাবরের মতো এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বেসামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর মৃত্যুর জন্য ‘সন্ত্রাসীদের’ দায়ী করেছে।ইন্টারনেট ও যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় প্রকৃত পরিস্থিতি বাইরে আসতে পারছে না।

এমন অবস্থায় ইলন মাস্কের স্পেসএক্স ইরানে বিনামূল্যে স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট চালুর প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থা ‘হোলিস্টিক রেজিলিয়েন্স’-এর তথ্য অনুযায়ী, স্টারলিংকের সাবস্ক্রিপশন ফি সাময়িকভাবে মওকুফ করা হয়েছে।অন্যদিকে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যদি বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি কার্যকর শুরু করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র ‘খুব শক্ত পদক্ষেপ’ নেবে। ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে তিনি ইরানিদের উদ্দেশে লিখেছেন, “বিক্ষোভ চালিয়ে যাও।

অর্থহীন হত্যাকাণ্ড বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আমি সব বৈঠক বাতিল করেছি।”ইরানি কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, কয়েক রাতের টানা বিক্ষোভের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, সরকার গুলি চালিয়ে বিক্ষোভ দমন করছে এবং ইন্টারনেট বন্ধ রেখে প্রকৃত চিত্র আড়াল করছে।এই আন্দোলনকে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর ধর্মীয় শাসনের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের অভ্যন্তরীণ সংকট এখন আন্তর্জাতিক রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে এবং সামনে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *