সর্বশেষ
ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬

ইরানে কি বড় হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েল? ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন নেতানিয়াহু!

Spread the love

ডেক্স রিপোর্ট, newsbd24live:


​ইরানের ক্রমবর্ধমান সামরিক শক্তি এবং পরমাণু কর্মসূচি দমনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে বিশেষ বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। চলতি সপ্তাহে ওয়াশিংটন সফরকালে দুই নেতার মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিকল্পগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে বলে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে জানা গেছে।


​ইসরায়েল মনে করছে, ইরান ও আমেরিকার মধ্যে চলমান আলোচনা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হতে পারে। এই আশঙ্কায় তেহরানের বিরুদ্ধে আগেভাগেই কঠোর অবস্থান নিশ্চিত করতে এবং ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপের স্বাধীনতা বজায় রাখতে ট্রাম্পের সমর্থন চান নেতানিয়াহু।


​গোপন গোয়েন্দা তথ্য পেশের পরিকল্পনা
সূত্র জানিয়েছে, ওয়াশিংটন সফরে নেতানিয়াহু ইরানের সামরিক সক্ষমতা বিশেষ করে তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার নিয়ে নতুন কিছু গোয়েন্দা তথ্য ট্রাম্পের সামনে উপস্থাপন করবেন। ইসরায়েলের মূল্যায়ন অনুযায়ী, এখনই পদক্ষেপ না নিলে ইরান খুব অল্প সময়ের মধ্যে ১৮০০ থেকে ২০০০ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মালিক হয়ে যেতে পারে। যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি।


​নেতানিয়াহুর অগ্রাধিকার তালিকায় ইরান
ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার আগে নেতানিয়াহু সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, ট্রাম্পের সাথে বৈঠকে তার প্রধান আলোচনার বিষয় হবে ইরান। তিনি বলেন, গাজা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে কথা হলেও আমাদের প্রধান লক্ষ্য থাকবে ইরানের সাথে চলমান আলোচনা। আমরা প্রেসিডেন্টের কাছে আমাদের মৌলিক নীতিগুলো তুলে ধরব যা মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার জন্য অত্যন্ত জরুরি।


​ট্রাম্পের অবস্থান ও চুক্তির সম্ভাবনা
তবে ইরানের সাথে চুক্তির বিষয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থানে কিছুটা ভিন্নতা লক্ষ্য করা গেছে। ইসরায়েল চায় ইরান যেন তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধ করে এবং আঞ্চলিক মিলিশিয়াদের মদত দেওয়া বন্ধ করে। কিন্তু ট্রাম্প সম্প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইরান যদি পরমাণু অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দেয়, তবে তিনি কেবল পরমাণু ইস্যুতেই সীমাবদ্ধ একটি চুক্তিতে রাজি হতে পারেন। এই সম্ভাবনাটি নেতানিয়াহুর জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


​নেতানিয়াহু বরাবরই ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তির ঘোর বিরোধী ছিলেন। এখন ট্রাম্প যদি একই ধরণের কোনো শিথিল চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন, তবে তা ইসরায়েলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। বিশেষজ্ঞমহল মনে করছেন, নেতানিয়াহুর মূল লক্ষ্য হলো হয় আমেরিকার মাধ্যমে ইরানের সামরিক পরাজয় নিশ্চিত করা, নতুবা এমন একটি কঠোর চুক্তি যা ইরানের সরকার ব্যবস্থার মেরুদণ্ড ভেঙে দেবে।


​গাজা যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক অস্থিতিশীলতার মাঝে এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
​তথ্যসূত্র: সিএনএন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *