বাংলাদেশের জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ইউরোপীয় পার্লামেন্টের মানবাধিকার বিষয়ক উপকমিটির সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছে। বৈঠকে বাংলাদেশে চলমান গণতান্ত্রিক উত্তরণ, মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।বৈঠকটি সভাপতিত্ব করেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য মুনির সাতৌরি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইসাবেল উইসেলার-লিমা, আর্কাদিউস মুলারচিক, উরমাস পায়েত এবং কাতারিনা ভিয়েরা। ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক উপদেষ্টারাও অংশ নেন।এনসিপি প্রতিনিধি দলে ছিলেন জ্যেষ্ঠ সদস্য সচিব তাসনিম জারা, যুগ্ম আহ্বায়ক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক সেলের প্রধান সুলতান মোহাম্মদ জাকারিয়া, মনিরা শারমিন, মুশফিকুর রহমান জোহান, তাহসিন রিয়াজ এবং নাভিদ নওরোজ শাহ।প্রতিনিধিরা এনসিপির গঠন, আদর্শ ও বহুত্ববাদী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ভিশন তুলে ধরেন। তারা ২০২৪ সালের জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ স্মরণ করেন, যা পনেরো বছরের কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসান ঘটায়।আলোচনায় উঠে আসে প্রধান বিষয়সমূহগণতান্ত্রিক উত্তরণ: এনসিপি জোর দিয়ে জানায় যে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচন শুধু সংসদ নির্বাচনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে একটি সংবিধান প্রণেতা পরিষদ হিসেবেও কাজ করতে হবে। নাহলে কাঠামোগত সংস্কার থমকে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।মানবাধিকার ও জবাবদিহি: প্রতিনিধিরা পূর্ববর্তী শাসনামল এবং জুলাইয়ের আন্দোলনে সংঘটিত নৃশংসতার বিচার ও জবাবদিহির জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ রোডম্যাপ দাবি করেন। তারা গুম বন্ধ ও দমনমূলক আইন বাতিলের মতো অন্তর্বর্তী সরকারের পদক্ষেপকে স্বাগত জানান।নির্বাচনী সচ্ছতা: একটি স্বাধীন নির্বাচন কমিশন, সমান সুযোগ এবং ভয়ভীতি মুক্ত পরিবেশ ছাড়া গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয় বলে এনসিপি জানায়।বিদেশ সম্পর্ক: ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক প্রসঙ্গে এনসিপি পুনরায় উল্লেখ করে যে সমতা, মর্যাদা ও পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে উঠতে হবে। পানিবণ্টন, সীমান্ত হত্যা ও বহিরাগত হস্তক্ষেপের মতো ইস্যুতে শান্তিপূর্ণ সংলাপের ওপর তারা জোর দেন।জলবায়ু প্রতিশ্রুতি: দলটির পরিবেশ ও জলবায়ু নীতি নিয়ে প্রতিশ্রুতির কথাও তুলে ধরা হয়।ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যরা বাংলাদেশের রাজনৈতিক রূপান্তর নিয়ে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতার উপায় নিয়ে আলোচনা করেন।উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্ব আরও দৃঢ় করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে।

