নিজস্ব প্রতিবেদক:
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ‘ওয়ান বক্স’ নীতি বা জোটগতভাবে সরকার গঠনের লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চালিয়ে আসছিল জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ৮ দলীয় জোট। তবে নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে এসে আসন ভাগাভাগি নিয়ে চরম জটিলতা ও বিরোধ দেখা দিয়েছে। শরিক দলগুলোর অতিরিক্ত আসনের চাহিদা এবং জামায়াতের নিজস্ব অবস্থান ধরে রাখার অনড় মানসিকতায় ভেস্তে যেতে বসেছে এই নির্বাচনী ঐক্যপ্রক্রিয়া।
শরিকদের বিশাল চাহিদা বনাম জামায়াতের লক্ষ্য
সংশ্লিষ্ট লিয়াজোঁ কমিটি দফায় দফায় বৈঠক করেও একক প্রার্থী নির্বাচনে কোনো সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি। সূত্র মতে, জোটের অন্যতম শরিক চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ শতাধিক আসনে নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২৫ থেকে ৩০টি আসন এবং খেলাফত মজলিসের অপর অংশও বেশ কিছু আসন দাবি করছে।
জামায়াতে ইসলামী নিজস্ব অন্তত ২০০ আসনে নির্বাচন করতে চায়। এমতাবস্থায় শরিকদের চাহিদা পূরণ করতে গেলে জামায়াতের আসন সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাবে, যা নিয়ে দলটির ভেতরে ও বাইরে চাপের সৃষ্টি হয়েছে।
‘বিশেষ মহলের’ আশ্বাস ও নতুন মেরুকরণ
জোটের ভেতরের খবর, একটি বিশেষ মহল থেকে ইসলামী আন্দোলন ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে আলাদাভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এমনকি তাদের নির্ধারিত আসনে অতীতের মতো জয়ের আশ্বাস বা ‘কনফার্মেশন’ দেওয়া হচ্ছে বলেও গুঞ্জন রয়েছে।
এই আশ্বাসের প্রেক্ষিতেই দলগুলো জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগ করে আলাদা প্ল্যাটফর্ম গড়ার বা এককভাবে নির্বাচনের চিন্তা করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এছাড়া, জোটের সমীকরণে নতুন করে যুক্ত হয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। তারাও অন্তত অর্ধশত আসনের প্রত্যাশা করছে, যা সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।
বিএনপির প্রস্তাব ও নেতাদের বক্তব্য
ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইউসুফ আহমেদ জানান, বিএনপির পক্ষ থেকেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে তাদের জন্য বিএনপির দুয়ার খোলা। তবে তিনি এখনই কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, “কাউকে কোথায় দিলে ভালো হয় তা নিয়ে আলোচনা চলছে, এখনো কোনো জোট হয়নি তাই পাওয়া না পাওয়ার কিছু নেই।”
অন্যদিকে, ভাঙনের গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ৮ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ড. হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, “আসন নিয়ে সবার ছাড় দেওয়ার মানসিকতা আছে। আমরা সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধভাবেই নির্বাচনে যাব এবং শিগগিরই এটি চূড়ান্ত হবে।”
খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমেদ আব্দুল কাদেরও ঐক্যের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “কিছু জটিলতা থাকলেও ঐক্য ভাঙার আশঙ্কা নেই, বরং আরও বড় পরিসরে ঐক্য হতে পারে।”
অনিশ্চয়তার অপেক্ষা
আগামীকাল শনিবারের মধ্যে অথবা মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ সময় পর্যন্ত শীর্ষ নেতাদের বৈঠকের মাধ্যমে এই জটিলতা নিরসনের চেষ্টা করা হবে। তবে শরিক দলগুলোর নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, সম্মানজনক আসন সমঝোতা না হলে তারা বিকল্প সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবেন। এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত ৮ দলীয় জোট অটুট থাকে, নাকি আসন ভাগাভাগির দ্বন্দ্বে ভেঙে যায় দীর্ঘদিনের এই রাজনৈতিক প্রক্রিয়া।

