সর্বশেষ
ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬

আমেরিকার রাস্তায় বের হলেই বিপদ! কাউকে ছাড়ছে না মুখোশধারী বাহিনী।

Spread the love

ডেক্স রিপোর্ট :


বিশ্বের পরাশক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কি চরম অভ্যন্তরীণ সংঘাতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে? ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে দেশটির বর্তমান পরিস্থিতি যেন সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে। হলিউডের সিনেমার কাল্পনিক দৃশ্যপট আজ ২০২৬ সালের আমেরিকায় বাস্তবে রূপ নিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতি এবং বিশেষ বাহিনী ‘আইস’ (ICE)-এর বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে উত্তাল হয়ে উঠেছে দেশটির রাজপথ।


​সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া বিভিন্ন ফুটেজ এবং আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, আমেরিকার পরিস্থিতি এখন চীন, রাশিয়া বা উত্তর কোরিয়ার মতো একনায়কতান্ত্রিক আচরণের শামিল। কোনো প্রকার ওয়ারেন্ট বা যাচাই-বাছাই ছাড়াই সাধারণ মানুষকে রাস্তাঘাট, শপিং মল বা পার্কিং লট থেকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে মুখোশধারী আইস এজেন্টরা। অভিযোগ উঠছে, শুধুমাত্র গায়ের রঙ বা ইংরেজি বলার ধরণ আলাদা হলেই অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।


​পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, একজন নিরস্ত্র মায়ের ওপর গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠার পরেও স্বয়ং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেই অফিসারকে সমর্থন জানিয়েছেন। ট্রাম্প প্রশাসন একে ‘আত্মরক্ষা’ বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেও, সাধারণ মার্কিনিরা এই বর্বরতা মেনে নিতে পারছেন না। নিউইয়র্ক, শিকাগো, সল্টলেক সিটির মতো বড় শহরগুলোতে হাজার হাজার মানুষ ‘জাস্টিস ফর অল’ এবং ‘ট্রাম্প হঠাও’ প্ল্যাকার্ড নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন।


​রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিজের ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করতে এবং জেফরি এপস্টাইন কেলেঙ্কারির মতো স্পর্শকাতর ইস্যু থেকে জনগণের নজর সরাতে ট্রাম্প পরিকল্পিতভাবে দেশে এই অরাজকতা সৃষ্টি করছেন। আইস ডিটেনশন সেন্টারে গত এক বছরে ৩০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যা মানবাধিকার লঙ্ঘনের চরম দৃষ্টান্ত।


​এদিকে, আমেরিকার এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনেও। দেশটিতে আসন্ন বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচগুলো বাতিল বা অন্য দেশে সরিয়ে নেওয়ার জোরালো দাবি উঠেছে। খোদ আমেরিকার নাগরিকরাই এখন পর্যটকদের তাদের দেশে না আসার অনুরোধ জানাচ্ছেন।


​অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, যে আমেরিকা একসময় সারা বিশ্বে গণতন্ত্রের ছবক দিত, আজ তাদের গণতন্ত্র রক্ষায় কি জাতিসংঘ বা অন্য দেশগুলোর শান্তিরক্ষী বাহিনী পাঠানো প্রয়োজন? ট্রাম্পের এই ‘বিভক্ত করো ও শাসন করো’ নীতি আমেরিকাকে শেষ পর্যন্ত কোথায় নিয়ে দাঁড় করাবে, তা নিয়ে শঙ্কিত বিশ্ববাসী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *