মোঃ শাহনুর রহমান লিমন, স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকাঃ
রাষ্ট্রায়ত্ত একমাত্র বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশে (আইসিবি) রক্ষিত ২২ কোটি টাকার মেয়াদি আমানত সুদসহ ফেরত চাইছে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক। দীর্ঘদিন ধরে একাধিকবার পত্র আদান প্রদান করেও আমানত ফেরত না পাওয়ায় এখন অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রত্যাশা করছে প্রতিষ্ঠানটি।ব্যাংক সূত্র জানায়, আইসিবিতে আটকে থাকা এই আমানত দ্রুত উত্তোলন করা না গেলে ব্যাংকের তহবিল ব্যবস্থাপনায় গুরুতর চাপ সৃষ্টি হবে। কারণ প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মূল তহবিলের উৎস হলো বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রি-ফাইন্যান্স ঋণ।
ফলে মেয়াদি আমানতের অর্থ যথাসময়ে হাতে না পেলে প্রবাসী শ্রমিকদের ঋণ বিতরণ, স্বল্পমেয়াদি দায় পরিশোধ এবং ব্যাংকের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।প্রতিষ্ঠানটির ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে মেয়াদি আমানত রেখে ব্যাংকটি তাদের কর, সুদ ও অন্যান্য ব্যয় নিয়মিত পরিশোধ করে থাকে। কিন্তু আইসিবিতে দীর্ঘ সময় ধরে অর্থ আটকে থাকায় আর্থিক প্রবাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।জানা গেছে, আইসিবির প্রধান কার্যালয় ও লোকাল অফিসে ২০২৩ সালের ১৮ জুলাই পর্যন্ত মোট ৩০ কোটি টাকার মেয়াদি আমানত রেখেছিল প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক। বহুবার চিঠি দেওয়ার পর আইসিবি মাত্র ৮ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে, বাকি ২২ কোটি টাকা এখনও অমীমাংসিত।এর মধ্যেঃ • আইসিবি প্রধান কার্যালয়ের এফডিআর নং ১২২৫৩/১/২১৩২, বর্তমান স্থিতি ১৯ কোটি টাকা; প্রথম খোলা ১৫ নভেম্বর ২০২১; ম্যাচুরিটি ১৫ আগস্ট ২০২৫।
• আইসিবি লোকাল অফিসের এফডিআর নং ০০০৫৮১৯/এলওসি/৫১৩, বর্তমান স্থিতি ৩ কোটি টাকা; প্রথম খোলা ২৬ অক্টোবর ২০২১; ম্যাচুরিটি ২৬ অক্টোবর ২০২৫।মেয়াদোত্তীর্ণ আমানত উত্তোলন জটিল হওয়ায় বিষয়টি ২০২৪ সালের ২৮ ডিসেম্বর পর্ষদের ১২৯তম সভায় উপস্থাপন করা হলে সিদ্ধান্ত হয় অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হবে। পর্ষদের নির্দেশনা অনুযায়ী নিয়মিত পত্র পাঠানো হলেও এখনো প্রত্যাশিত অর্থ ফেরত পায়নি ব্যাংকটি, বরং কার্যক্রমে চাপ আরও বেড়েছে।ব্যবস্থাপনা পরিচালক চানু গোপাল ঘোষ এক পত্রে উল্লেখ করেছেন, স্বল্পমেয়াদি দায় পরিশোধ ও সার্বিক কার্যক্রম সচল রাখতে আইসিবিতে রক্ষিত ২২ কোটি টাকার মেয়াদি আমানত সুদসহ দ্রুত ফেরত পাওয়া অত্যন্ত জরুরি।

