মোঃ শাহনুর রহমান লিমন, স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকাঃ
দেশের বীমা খাতে সুশাসন ও স্বচ্ছতার স্বীকৃতি দিতে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) ‘আইডিআরএ ইন্স্যুরেন্স এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড ২০২৫’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের অনেকেই এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, এ ধরনের স্বীকৃতি বীমা খাতে ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে তুলবে, জনসাধারণের আস্থা পুনরুদ্ধারে সহায়ক হবে এবং ভালো পারফরম্যান্স করা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজের যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করবে।
তবে পুরস্কার প্রদানের পদ্ধতি ও মানদণ্ড নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক। অভিযোগ উঠেছে, বীমা আইন ও নিয়ন্ত্রক শর্ত অনুযায়ী যেসব প্রতিষ্ঠান কার্যত অযোগ্য, তারাও ‘সেরা’ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে। এতে নিয়ম মেনে চলা প্রতিষ্ঠানগুলো নিরুৎসাহিত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।সমালোচকদের দাবি, কিছু প্রতিষ্ঠানের পারফরম্যান্স তুলনামূলকভাবে দুর্বল হলেও তারা পুরস্কারপ্রাপ্তদের তালিকায় স্থান পেয়েছে, যা মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি করেছে। পাশাপাশি অংশগ্রহণকারী বা সংশ্লিষ্টদের মতামত নেওয়া হয়নি এবং মূল্যায়নের কাগজপত্র, তথ্যসূত্র বা পর্যালোচনা রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়নি ফলে পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ নয় বলে অভিযোগ উঠেছে।সবচেয়ে বড় বিতর্কের বিষয় হলো, অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান আয়োজনের খরচ নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানগুলোকেই বহন করতে হবে এমন শর্ত। অনেকের মতে, এতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার স্বীকৃতি ‘অর্থ দিয়ে কেনা সম্মান’ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে এবং স্বার্থের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়।এ বিষয়ে আইডিআরএর চেয়ারম্যান ড. এম আসলাম আলমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান এ ধরনের পুরস্কার ব্যবস্থাকে সমর্থনযোগ্য মনে করেন না বলে মন্তব্য করেছেন।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, বীমা খাতে সুশাসন ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য প্রশংসনীয় হলেও পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানকে অনুষ্ঠানের ব্যয় বহন করতে হলে তা পুরো উদ্যোগের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করতে পারে। এতে পুরস্কার যোগ্যতার স্বীকৃতি না হয়ে অর্থের বিনিময়ে অর্জিত সম্মান হিসেবে বিবেচিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।আইডিআরএ জানিয়েছে, লাইফ ও নন-লাইফ মিলিয়ে মোট ১৩টি প্রতিষ্ঠানকে এই পুরস্কার দেওয়া হবে।
কর্তৃপক্ষের সভায় অনুমোদনের পর বিভিন্ন সূচকের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানগুলোর সুশাসন মূল্যায়ন করা হয়েছে বলে দাবি করা হলেও ব্যবহৃত মানদণ্ড, ওজন ও তথ্যসূত্র প্রকাশ না করায় সমালোচনা আরও জোরালো হয়েছে।সবচেয়ে বিতর্কিত বিষয় হলো কিছু নির্বাচিত প্রতিষ্ঠান পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার মতো আইনি বাধ্যবাধকতা পূরণ না করলেও তারা পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। যদিও আইডিআরএর মুখপাত্র এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং পরবর্তীতে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানিয়েছেন।

