সর্বশেষ
ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬

হাড় কাঁপানো শীতেও পেঙ্গুইন কীভাবে বেঁচে থাকে? জানলে অবাক হবেন!

Spread the love

ডেস্ক রিপোর্ট, নিউজবিডি২৪লাইভ:

প্রকৃতির বৈচিত্র্য এবং প্রাণীজগতের টিকে থাকার কৌশল মানুষের চিন্তাশক্তিকেও হার মানায়। আমরা যখন সামান্য শীতেই জ্যাকেট বা সোয়েটার গায়ে জড়িয়ে উষ্ণতা খুঁজি, তখন পৃথিবীর অন্যতম শীতল অঞ্চল এন্টার্কটিকার মাইনাস তাপমাত্রায় পেঙ্গুইনরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা বরফশীতল পানিতে সাঁতার কেটে বেড়ায়। কিন্তু তাদের কি ঠাণ্ডা লাগে না? কীভাবে তারা এই হাড় কাঁপানো পরিবেশে টিকে থাকে?

বিজ্ঞানীদের গবেষণায় উঠে এসেছে এর পেছনের চমকপ্রদ কিছু তথ্য।
​পেঙ্গুইনদের এই শীতজয়ী ক্ষমতার মূল রহস্য লুকিয়ে আছে তাদের পালকের গঠন এবং শরীরের বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্যের মধ্যে।

বিজ্ঞানীদের মতে, পেঙ্গুইনের পালকের ঘনত্ব বা ডেন্সিটি অত্যন্ত বেশি। প্রতি স্কয়ার ইঞ্চিতে এদের প্রায় ১০০-এর বেশি পালক থাকে, যা সাধারণ যেকোনো পাখির তুলনায় কয়েক গুণ বেশি। এই ঘন পালকগুলোই তাদের শরীরের প্রথম প্রতিরক্ষা স্তর হিসেবে কাজ করে।


​এই পালকগুলো কাজ করার পদ্ধতিও অত্যন্ত জটিল এবং সুনিপুণ। প্রথমত, পেঙ্গুইনের পালকগুলো একটার সাথে আরেকটা এমনভাবে লক হয়ে বা আটকে থাকে যে, বাইরের হিমাঙ্কের নিচের তাপমাত্রার পানি তাদের চামড়া পর্যন্ত পৌঁছাতেই পারে না। একে একটি ‘ন্যাচারাল রেইনকোট’ বা প্রাকৃতিক বর্ষাতি বলা যেতে পারে।


​দ্বিতীয়ত, পেঙ্গুইনদের লেজের কাছে একটি বিশেষ গ্রন্থি বা গ্ল্যান্ড থাকে। এই গ্রন্থি থেকে এক ধরণের তেল নিঃসৃত হয়। পেঙ্গুইনরা তাদের ঠোঁট দিয়ে এই তেল সারা শরীরে মাখিয়ে নেয়। এই তেল তাদের পালককে পিচ্ছিল রাখে এবং পানি নিরোধক বা ওয়াটারপ্রুফ করতে সাহায্য করে। ফলে বরফশীতল পানি তাদের শরীরে বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে পারে না।


​তৃতীয়ত এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তাদের ইনসুলেশন বা তাপ নিরোধক ব্যবস্থা। পেঙ্গুইনের এই ঘন পালকের নিচে বাতাসের একটি স্তর আটকে থাকে। এর ঠিক নিচেই চামড়ার তলদেশে থাকে চর্বির একটি মোটা ও পুরু লেয়ার, যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় ‘ব্লাবার’ বলা হয়। পালকের নিচের বাতাস এবং চামড়ার নিচের চর্বি—এই দুইয়ে মিলে এমন একটি শক্তিশালী ইনসুলেশন তৈরি হয় যে, বাইরের হাড় কাঁপানো ঠান্ডা বাতাস বা পানি তাদের শরীরের ভেতরের উষ্ণতাকে স্পর্শও করতে পারে না।


​প্রকৃতির এই নিখুঁত ইঞ্জিনিয়ারিং বা প্রকৌশলবিদ্যার কারণেই পেঙ্গুইনরা পৃথিবীর সবচেয়ে দুর্গম ও শীতল পরিবেশে হাজার বছর ধরে দাপটের সাথে টিকে আছে। এটি কেবল প্রাণীজগতের বিস্ময় নয়, বরং বিজ্ঞানের এক অনন্য নিদর্শন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *