নোমাইনুল ইসলাম, বাঘাইছড়ি(রাঙামাটি) প্রতিনিধি:ন
তুন এমপিও নীতিমালায় আর্থিক লাভজনক পেশায় সম্পৃক্ততার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলেও কাচালং বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এমপিওভুক্ত সিনিয়র সহকারী শিক্ষক তোফাজ্জল হোসেন (দৈনিক কর্ণফুলী, বাঘাইছড়ি উপজেলা প্রতিনিধি) প্রকাশ্যে সাংবাদিকতা চালিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমানে তিনি বাঘাইছড়ি প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করছেন, যা সরাসরি সরকারি নীতিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
এর আগে দেশের বিভিন্ন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বহু শিক্ষক শিক্ষকতার পাশাপাশি সাংবাদিকতা, আইন পেশা কিংবা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরির মাধ্যমে অতিরিক্ত আয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। নির্দিষ্ট কোনো আইনি বাধা না থাকায়—বিশেষ করে মফস্বল অঞ্চলে—এ প্রবণতা ছিল ব্যাপক। তবে সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ ৭ ডিসেম্বর প্রকাশিত নতুন এমপিও নীতিমালার মাধ্যমে এই দ্বৈত পেশা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।নতুন নীতিমালার ১১ নম্বর ধারার ১৭ উপধারার ‘ক’ দফায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে—এমপিওভুক্ত কোনো শিক্ষক-কর্মচারী একাধিক চাকরি বা অন্য কোনো আর্থিক লাভজনক পেশায় নিয়োজিত থাকতে পারবেন না।
তদন্তে এ ধরনের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির এমপিও বাতিলসহ বিধি অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষমতা সরকার সংরক্ষণ করেছে।একই ধারার ‘খ’ উপধারায় সাংবাদিকতা, আইন পেশা কিংবা কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করাকেও ‘আর্থিক লাভজনক পেশা’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।উল্লেখ্য, সরকারি চাকরিজীবীদের মতোই এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা বেতন, বাড়িভাড়া ভাতা, ঈদ বোনাসসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে পেয়ে থাকেন।
ফলে সরকারি অর্থ গ্রহণকারী হিসেবে তাদের জন্য সরকারি নীতিমালা মেনে চলা বাধ্যতামূলক।নতুন নীতিমালা কার্যকর হওয়ার পর এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের শিক্ষকতার বাইরে সাংবাদিকতা, ওকালতি কিংবা অন্য কোনো লাভজনক পেশায় যুক্ত থাকার সুযোগ নেই।
অথচ সরকারি নির্দেশনাকে উপেক্ষা করে কাচালং বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক তোফাজ্জল হোসেন এখনো বাঘাইছড়ি প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন, যা স্পষ্টভাবে নীতিমালা লঙ্ঘনের শামিল।এ বিষয়ে বাঘাইছড়ি প্রেসক্লাবের বর্তমান সিনিয়র সহ-সভাপতি তোফাজ্জল হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি এখন পত্রিকায় তেমন লেখালেখি করি না, তবে নীতিমালা সম্পর্কে অবগত আছি।
পরবর্তী মিটিংয়ে আমি পদত্যাগপত্র জমা দেব।” পরে তিনি পুনরায় প্রতিবেদকের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে বলেন, “আমি তখন মসজিদে ছিলাম, তাই ভালো করে কথা বলতে পারিনি। আর নীতিমালা এখনো আমাদের কাছে পৌঁছায়নি। নীতিমালা পাওয়ার পর মফস্বল সাংবাদিকদের ক্ষেত্রেও যদি এটি প্রযোজ্য হয়, তাহলে আমি পদত্যাগ করবো।”এ বিষয়ে বাঘাইছড়ি প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল মাবুদকে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “সরকারি নীতিমালা আমি পড়েছি, তবে বিষয়টি এখনো পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারিনি—সাংবাদিকতা কীভাবে আর্থিক লাভজনক পেশা হিসেবে গণ্য হয়। তবে তিনি (তোফাজ্জল হোসেন) যদি তার চাকরি বাঁচাতে চান, তাহলে নিজে থেকেই পদত্যাগ করবেন; আর না চাইলে পদে বহাল থাকবেন।” সভাপতির পদে থেকে এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এখনো কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
পরবর্তী মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ও বাঘাইছড়ি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) শরিৎ কুমার চাকমার সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বললে তিনি জানান, “সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী একই ব্যক্তি শিক্ষকতার পাশাপাশি কোনো আর্থিক লাভজনক প্রতিষ্ঠানে একসঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না।
পাশাপাশি তিনি কোনো সূত্রে প্রেসক্লাব বা সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গেও যুক্ত থাকতে পারবেন না।” তিনি আরও বলেন, “বিষয়টি তদন্তে সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

