মোঃ শাহনুর রহমান লিমন, স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকাঃ
দেশের শেয়ারবাজার বহুদিন ধরেই অস্থিরতায় ভুগছে। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সংকট ঘোচানোর আশাবাদ তৈরি হলেও বাস্তবে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে গেছে। ঘন ঘন দরপতন, লেনদেনে স্থবিরতা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতা সব মিলিয়ে বাজার যেন উল্টো পথে হাঁটছে।অর্থনীতির অন্যান্য ক্ষেত্র যেমন ব্যাংক খাতে সংস্কার, রেমিট্যান্স বৃদ্ধি, রিজার্ভ চাপ কমে আসা, আমদানি স্বাভাবিক হওয়া এসব উন্নতি দৃশ্যমান হলেও শেয়ারবাজারে তেমন কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আসেনি।
বরং বাজারে অনিয়ম দুর্নীতির তদন্ত, আগের ধসের বিচার এবং সুশাসন নিশ্চিত না হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা নতুন আস্থা পাচ্ছেন না।বাজারসংশ্লিষ্টদের অভিযোগ বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ। দীর্ঘদিনের নৈরাজ্য বন্ধ হবে এমন নিশ্চয়তা না পাওয়ায় সক্রিয় বিনিয়োগকারীরা সক্ষমতা হারাচ্ছেন। ব্যক্তিশ্রেণির হাতে নতুন বিনিয়োগের মতো অর্থ নেই, আর বড় বিনিয়োগকারীরা অপেক্ষা করছেন ভবিষ্যৎ অর্থনীতি ও নীতির স্থিতি দেখার জন্য। অনিশ্চিত পরিবেশে বিনিয়োগ না আসায় দরপতন আরও তীব্র হয়েছে।
বাজারে আস্থা এখন যেন শূন্যেরও নিচে। ফলে কেনার সময়ে বিক্রি বাড়ছে যা পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করছে।বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায় ডিএসইতে লেনদেন নেমে এসেছে মাত্র ২০০–২৬৭ কোটি টাকায়, যা ছয় মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম কমেছে, সূচকও বড় আকারে পতন হয়েছে। গত সপ্তাহে চার কার্যদিবসে দরপতন এবং মূলধনে ৭ হাজার ৩৭১ কোটি টাকা হ্রাস বাজারের গভীর মন্দাকেই প্রতিফলিত করছে। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও একই চিত্র লেনদেন কমছে, দাম পড়ছে, সূচক নিচের দিকে।
সার্বিক পরিস্থিতি বলছে শেয়ারবাজারে স্থিতি ফিরিয়ে আনার জন্য আস্থা তৈরিই এখন মূল চ্যালেঞ্জ। সুশাসন, স্বচ্ছতা, তদন্ত এবং নীতির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত না হলে বাজারে দ্রুত কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা কম।

