জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশন বুধবার সন্ধ্যায় বেগম খালেদা জিয়া’র হাতে ‘জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫’ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যোগদানের আমন্ত্রণপত্র হস্তান্তর করে। রাত ৮ টার দিকে বসুন্ধরার এভারকেয়ার হাসপাতালে দুই সদস্য — ড. বদিউল আলম মজুমদার ও মনির হায়দার — উপস্থিত থেকে এই আমন্ত্রণপত্রকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসনকে তুলে দেন। এই সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন ও চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার। কমিশনের পক্ষ থেকে ওই আমন্ত্রণপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, আগামী ১৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে ওই যথাক্রমিক ‘জুলাই সনদ’ স্বাক্ষর অনুষ্ঠান। কমিশন আশা করছে, খালেদা জিয়া এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান অনুষ্ঠানটিতে অংশ নিয়ে, সনদ বাস্তবায়নের সংকল্পকে সর্ব পেক্ষাপটে সমর্থন করবেন। এদিকে, কমিশনের এই পদক্ষেপ রাজনৈতিক মহলে আলোচ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে, সনদ প্রণয়ন, স্বাক্ষর ও বাস্তবায়ন পদ্ধতির প্রশ্ন রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ইতিমধ্যেই তর্কের বিষয় হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও চ্যালেঞ্জজুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়নের লক্ষ্যে, ইতিমধ্যে জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশন বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বিস্তৃত আলোচনা সম্পন্ন করেছে। তবে সনদের বাস্তবায়ন পদ্ধতি নির্ধারণ ও বাধ্যবাধকতা নিশ্চিতকরণ এখনও তেমনভাবে চূড়ান্ত হয়নি। রাষ্ট্রপতির বিশেষ সাংবিধানিক আদেশ বা সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধির পরিবর্তনের মাধ্যমে কিছু প্রস্তাব দ্রুত বাস্তবায়নের চিন্তা করা হচ্ছে। একই সময়ে, বিএনপি সহ কিছু দল ‘নোট অব ডিসেন্ট’ (ভিন্নমত) সংযুক্ত রাখার প্রস্তাবও রেখেছে, যা সনদের বৈচিত্র্য ও রাজনৈতিক সংলাপের গভীরতা তুলে ধরছে। ভবিষ্যৎ অপেক্ষাকমিশন আগামী দিনগুলোতে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আরও বৈঠক অনুষ্ঠিত করবে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সনদের চূড়ান্ত খসড়া ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি নির্ধারণ করতে চায়।

