জায়েদ আহমেদ, স্টাফ রিপোর্টার:
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে এক ব্যতিক্রমী ও সাহসী কর্মসূচির মধ্য দিয়ে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী প্রীতম দাশ। রোববার সকালে শহরের কলেজ রোড এলাকায় তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মসজিদের সামনে অবস্থিত পৌরসভার ময়লার ভাগাড়ে দাঁড়িয়ে তিনি তার নির্বাচনী অঙ্গীকারনামা পাঠ করেন।ইশতেহার ঘোষণার স্থান হিসেবে ময়লার ভাগাড়কে বেছে নেওয়ার কারণ হিসেবে প্রীতম দাশ বলেন, “এই ভাগাড় শ্রীমঙ্গলবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ ও অবহেলার প্রতীক। তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও একটি মসজিদের পাশে এমন বর্জ্যের স্তূপ জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকি।
আমি নির্বাচিত হলে আমার প্রথম কাজ হবে এই ভাগাড় অপসারণ করে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা।”প্রীতম দাশ তার ইশতেহারে সমাজের অবহেলিত শ্রেণি ও স্থানীয় সমস্যাগুলোকে প্রাধান্য দিয়েছেন। তার উল্লেখযোগ্য প্রতিশ্রুতিগুলো হলো, চা শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার এবং আদিবাসীদের ভূমির অধিকার নিশ্চিত করা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনের ময়লার ভাগাড় অপসারণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ২৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ, হাওর দখলমুক্ত করে সিন্ডিকেট ভাঙা এবং নির্দিষ্ট ফি-র বিনিময়ে সর্বসাধারণের মাছ ধরার অধিকার নিশ্চিত করা।
কৃষকদের জন্য সার ও সেচ সুবিধা সহজলভ্য করা, ইমাম ও পুরোহিতসহ সকল ধর্মীয় নেতাদের রাষ্ট্রীয় বেতন-ভাতা নিশ্চিত করা এবং উপাসনালয়ের বেদখল জমি উদ্ধার, ডিজিটাল হাব ও ‘ওয়ান স্টপ ইয়ুথ সেন্টার’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ইকো-ট্যুরিজমের উন্নয়ন।ইশতেহার ঘোষণাকালে প্রীতম দাশ তার বিগত দিনের রাজনৈতিক সংগ্রামের কথা স্মরণ করে বলেন, চা শ্রমিক ও আদিবাসীদের অধিকার আদায়ে আন্দোলন করতে গিয়ে তাকে ১৩১ দিন জেল খাটতে হয়েছে। তিনি দাবি করেন, তার রাজনীতি শোষিত মানুষের জন্য।বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি বলেন, “অতীতের প্রতিনিধিরা অনেক প্রতিশ্রুতি দিলেও শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ আজও অবহেলিত। এই অঞ্চলকে আধুনিক ও মানবিক জনপদে রূপান্তর করতে এবার পরিবর্তনের সময় এসেছে।” তিনি আগামী নির্বাচনে ‘শাপলাকলি’ মার্কায় ভোট দিয়ে তাকে জয়যুক্ত করার জন্য সর্বস্তরের জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।

