মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজারের বুদ্ধিমন্তপুর গ্রামে রাতের অন্ধকারে এক নজিরবিহীন নিষ্ঠুরতার সাক্ষী হলো এলাকাবাসী। সোমবার দিবাগত রাতে স্থানীয় এক ব্যক্তির মালিকানাধীন গবাদিপশুর খামারে দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে বিপুল সংখ্যক গবাদিপশু। আগুনের এই লেলিহান শিখা মুহূর্তেই একটি সাজানো খামারকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে।
সরেজমিনে গিয়ে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, রাতের কোনো এক সময় পরিকল্পিতভাবে খামারটিতে আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে খামারে থাকা ৫০টি গরু, ১০টি ভেড়া (মেরা) এবং প্রায় ২০০টি হাঁস ঘটনাস্থলেই জীবন্ত দগ্ধ হয়ে মারা যায়। খামারের মালিক স্থানীয় জামায়াত রাজনীতির সাথে জড়িত বলে জানা গেছে।
খামারের মালিক এবং স্থানীয়রা দাবি করছেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা কিংবা পূর্ব শত্রুতার জেরে কোনো কুচক্রী মহল এই পৈশাচিক ঘটনা ঘটিয়েছে। আগুনের খবর পেয়ে গ্রামবাসী ছুটে এলেও ততক্ষণে অধিকাংশ পশু পুড়ে ছাই হয়ে যায়। চোখের সামনে অবলা পশুগুলোর এমন মৃত্যু দেখে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ভুক্তভোগী খামারি কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, আমার সারাজীবনের উপার্জনকে এক নিমিষেই ছাই করে দেওয়া হলো। অবলা পশুগুলোর ওপর কেন এমন আক্রোশ চালানো হলো, তার কোনো উত্তর নেই। আমি প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, মৌলভীবাজারে ইদানীং চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা এবং প্রতিহিংসামূলক অপরাধ বেড়েই চলেছে। প্রশাসনের সঠিক নজরদারির অভাবে দুর্বৃত্তরা আজ বেপরোয়া। যদি প্রশাসনের মেরুদণ্ড সোজা থাকে, তবে দ্রুত তদন্ত করে এই অমানুষদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা উচিত।
এই ক্ষতিগ্রস্ত খামারির পাশে দাঁড়ানোর জন্য সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এই ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

