মোঃ শাহনুর রহমান লিমন, স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকাঃ
ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) নিয়মিত কর্মকর্তা কর্মচারীরা শুক্রবার ভোর ৭টা থেকে সর্বাত্মক কর্মবিরতি এবং যাত্রী সেবা বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। পূর্বঘোষিত আলটিমেটাম অনুযায়ী নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে স্বতন্ত্র চাকরি-বিধিমালা প্রণয়ন ও প্রকাশ না হওয়ায় তারা এ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন।
বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কর্মবিরতির পাশাপাশি প্রতিদিন ডিএমটিসিএল প্রধান কার্যালয়ের সামনে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে।কর্মচারীরা জানান, ২০১৩ সালে ডিএমটিসিএল প্রতিষ্ঠার পর ১২ বছর কেটে গেলেও প্রতিষ্ঠানটির ৯০০-র বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য এখনো কোনো স্বতন্ত্র চাকরি-বিধিমালা চূড়ান্ত হয়নি। ২০২২ সালে মেট্রোরেলের বাণিজ্যিক অপারেশন শুরুর পর উন্মুক্ত নিয়োগে যোগ দেওয়া এসব কর্মচারী ছুটি, সিপিএফ, গ্র্যাচুইটি, শিফট-অ্যালাউন্স/ওভারটাইম, গ্রুপ ইনস্যুরেন্সসহ মৌলিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত বলে অভিযোগ করেন।
তারা আরও জানান, উপদেষ্টা কমিটির নির্দেশ অনুযায়ী ২০২৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বরের পর ৬০ কর্মদিবসের মধ্যে সার্ভিস রুল প্রণয়নের কথা থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে আন্দোলনের পর কর্তৃপক্ষ ২০ মার্চের মধ্যে সার্ভিস রুল চূড়ান্তের আশ্বাস দিলেও প্রতিশ্রুতি বাস্তব রূপ পায়নি। ফলে দীর্ঘ ৯ মাস ধরে কর্মচারীদের ক্ষোভ বৃদ্ধি পায়।গত ১০ ডিসেম্বর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সাথে বৈঠকে জানানো হয়, সার্ভিস রুলের সব ধারা পরিচালনা পর্ষদে অনুমোদিত হলেও ‘বিশেষ বিধান’ সংক্রান্ত একাদশ অধ্যায়ই বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই অধ্যায়ে মেট্রোরেল প্রকল্পসমূহের জনবলকে ডিএমটিসিএলে আত্মীকরণের বিষয় যুক্ত আছে, যা কর্মচারীরা প্রচলিত আইন এবং সুপ্রিম কোর্টের রায় বিরোধী বলে দাবি করেন।কর্মচারীদের অভিযোগ, পরিচালনা পর্ষদ বিতর্কিত বিধান বাদ দিতে আগ্রহী হলেও ডিএমটিসিএল কর্তৃপক্ষের চাপের কারণেই সার্ভিস রুল প্রকাশ বিলম্বিত হচ্ছে। ফলে ৯ ডিসেম্বরের মধ্যে সার্ভিস রুল প্রকাশ না হওয়ায় তারা ঘোষণা দেন ১১ ডিসেম্বরও সার্ভিস রুল প্রকাশ না হলে ১২ ডিসেম্বর শুক্রবার ভোর ৭টা থেকে কর্মবিরতি এবং সব যাত্রী সেবা বন্ধ থাকবে।তাদের দাবি, চাকরি বিধিমালা ছাড়া ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত নয়। তাই আশ্বাস নয়, চূড়ান্ত ও প্রকাশিত সার্ভিস রুলই একমাত্র সমাধান।

