মোঃ শাহনুর রহমান লিমন, স্টাফ রিপোর্টার:
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের ভয়াবহতায় প্রাণ হারিয়েছেন ছয়জন বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিক। জীবিকার সন্ধানে বিদেশে পাড়ি জমালেও শেষ পর্যন্ত যুদ্ধের নির্মমতার শিকার হন তারা। নিহতরা হলেন কুমিল্লার শাহ আলম ভূঁইয়া, চট্টগ্রামের এসএম তারেক, টাঙ্গাইলের মোশাররফ হোসেন, ময়মনসিংহের আব্দুল্লাহ আল মামুন, কিশোরগঞ্জের বাচ্চু মিয়া এবং মৌলভীবাজারের আহমদ আলী।
জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে তিনজন সৌদি আরবে, দুজন সংযুক্ত আরব আমিরাতে এবং একজন বাহরাইনে কর্মরত ছিলেন। বিভিন্ন সময়ে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তারা নিহত হন। এতে তাদের পরিবারগুলো চরম অনিশ্চয়তা ও দুর্দশার মুখে পড়েছে।কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার জিরুইন গ্রামের শাহ আলম ভূঁইয়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ অঞ্চলে একটি খামারে কাজ করার সময় ১ এপ্রিল সকালে ড্রোন হামলায় নিহত হন। চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের বাসিন্দা এসএম তারেক আলী বাহরাইনে কর্মরত অবস্থায় ২ মার্চ ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষে প্রাণ হারান। তিনি স্ত্রী ও এক কন্যাসন্তান রেখে গেছেন।সৌদি আরবের আল-খারজ এলাকায় ৮ মার্চ ইফতারের আগে শ্রমিক ক্যাম্পে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হন কিশোরগঞ্জের বাচ্চু মিয়া।
একই ঘটনায় গুরুতর দগ্ধ হয়ে পরে মারা যান ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের আব্দুল্লাহ আল মামুন, যার শরীরের প্রায় ৯০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। একই এলাকায় আরেক হামলায় প্রাণ হারান টাঙ্গাইলের মোশাররফ হোসেন।অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আজমানে পানির গাড়ি চালানোর সময় ২৮ ফেব্রুয়ারি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হন মৌলভীবাজারের আহমদ আলী।প্রবাসে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে গিয়ে এভাবে প্রাণ হারানো বাংলাদেশিদের মৃত্যু তাদের পরিবারের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে এসেছে, যা নতুন করে প্রবাসী নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

