মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ গত সোমবার (২০ অক্টোবর) হোয়াইট হাউসে এক ঐতিহাসিক বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে দু’দেশের মধ্যে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিরল মৃত্তিকা (Rare Earths) ও সংকটকালীন খনিজ (Critical Minerals) চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার প্রধান লক্ষ্য হলো বৈশ্বিক সরবরাহে চীনের ক্রমবর্ধমান নিয়ন্ত্রণকে প্রতিহত করে একটি স্থিতিশীল যোগান নিশ্চিত করা।বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীকে নিশ্চিত করেন যে, অস্ট্রেলিয়া তাদের প্রত্যাশিত সাবমেরিনগুলো পাবে। এর আগে ২০২১ সালের AUKUS (অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) চুক্তি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন সংশয় প্রকাশ করলেও, এখন প্রক্রিয়াটি ‘খুব দ্রুত গতিতে’ এগিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি জানান।ট্রাম্প বলেন, “অস্ট্রেলিয়ার জন্য আমরা যে সাবমেরিনগুলো তৈরি করা শুরু করছি, তা সত্যিই খুব দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে… আমরা দীর্ঘদিন ধরে কঠোর পরিশ্রম করেছি এবং সেই প্রক্রিয়া এখনই শুরু হচ্ছে। এটি খুব দ্রুত গতিতে, খুব ভালোভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।” উল্লেখ্য, ক্যানবেরার হিসেব অনুযায়ী, AUKUS সাবমেরিন চুক্তিতে অস্ট্রেলিয়ার আগামী ৩০ বছরে প্রায় $২৩৫ বিলিয়ন পর্যন্ত খরচ হতে পারে। এই চুক্তির ফলে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দুই মিত্র দেশের নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও দৃঢ় হলো।বিরল মৃত্তিকা চুক্তি স্বাক্ষরের ঘটনাটি আরও তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এর ঠিক আগেই ট্রাম্প চীনকে তাদের সর্বশেষ বিরল মৃত্তিকা রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার জন্য ১০০ শতাংশ শুল্কের (tariffs) হুমকি দিয়েছিলেন।চিন সফর ও বাণিজ্য চুক্তির আশাএই কূটনৈতিক উত্তেজনার আবহে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও ঘোষণা করেন যে, তিনি আগামী বছরের শুরুর দিকে চীন সফরে যাবেন। এর পাশাপাশি, চলতি মাসেই দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করারও আশা প্রকাশ করেন। ট্রাম্প বলেন, “আমাকে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং আমি আগামী বছরের প্রথম দিকেই সেটি করতে যাচ্ছি। আমাদের মোটামুটি সবকিছু ঠিক করা আছে।”এই বিরল মৃত্তিকা চুক্তি এবং AUKUS সাবমেরিন কর্মসূচির অগ্রগতি অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেল, যা বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

