সর্বশেষ
ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬

ফার্মেসি থেকে তুলে নেয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই লাশ হলেন বিএনপি নেতা ডাবলু!

Spread the love

নিজস্ব প্রতিবেদক:

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে আবারও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। গতকাল ১২ জানুয়ারি রাত সোয়া ৯টার দিকে জীবননগর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান ডাবলুকে আটকের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তার মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। নিহতের পরিবার ও দলীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ, আটকের পর নির্মম নির্যাতনের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।


​প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল রাতে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে অবস্থিত একটি ফার্মেসিতে অবস্থান করছিলেন শামসুজ্জামান ডাবলু। এ সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৬ এডি রেজিমেন্ট (টিটিসি আর্মি ক্যাম্প)-এর একদল সদস্য সেখানে উপস্থিত হন। অস্ত্র উদ্ধার অভিযানের কথা বলে তাকে ফার্মেসি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় জীবননগর উপজেলা বিএনপির পার্টি অফিসে। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে জিজ্ঞাসাবাদের নামে তার ওপর অমানবিক শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়।


​একপর্যায়ে শামসুজ্জামান ডাবলু গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে সেনাবাহিনীর সদস্যরা তাকে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতাল চত্বরে তার দুই শিশু সন্তান ও স্বজনদের আহাজারিতে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।


​তবে এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বলে মনে করছেন মানবাধিকার কর্মী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সাম্প্রতিক সময়ে যৌথ বাহিনী ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত এক বছরে দেশের বিভিন্ন স্থানে একই কায়দাজ আটকের পর মৃত্যুর একাধিক ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।


​মাত্র কিছুদিন আগে, ২০২৫ সালের ৪ ডিসেম্বর, যশোরের কেশবপুরে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযানে আটক হন পৌর যুবদলের সদস্য উজ্জ্বল বিশ্বাস। তাকেও বেদম মারধর করে কারাগারে পাঠানোর অভিযোগ ওঠে। কারা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের সময় ডাক্তারি সনদে ‘পাবলিক অ্যাসল্ট’ উল্লেখ থাকলেও পরবর্তীতে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়।
​এর আগে ২০২৫ সালের ২১ জুলাই ভোরে রাজধানীর মিরপুরে শাহআলী থানার ৯৩ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সচিব আসিফ শিকদারকে আটক করে যৌথ বাহিনী। আটকের পর নির্যাতনের ফলে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনিও মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। একই বছরের ৩১ জানুয়ারি কুমিল্লায় ঘটে আরেক মর্মান্তিক ঘটনা। চট্টগ্রাম বন্দরের শিপিং এজেন্ট কর্মী তৌহিদুর রহমান বাবার মৃত্যুর খবর শুনে বাড়িতে এসেছিলেন। রাত আড়াইটার দিকে তাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় যৌথ বাহিনী। পরদিন দুপুরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।


​প্রতিটি ঘটনার পরই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে গতানুগতিক বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ক্যাম্প কমান্ডারকে প্রত্যাহার করা হলেও অভিযুক্ত সদস্যদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণ বা দৃশ্যমান কোনো শাস্তির নজির খুব একটা দেখা যায়নি। অতীতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অপরাধে অনেক উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তাকে আইনের আওতায় আনা হলেও, মাঠ পর্যায়ে আচরণের কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন পরিলক্ষিত হচ্ছে না বলে অভিযোগ সাধারণ মানুষের।


​শামসুজ্জামান ডাবলুর মৃত্যুতে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। জনমনে প্রশ্ন উঠছে, বিচারহীনতার এই সংস্কৃতি আর কতদিন চলবে? আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত বাহিনীর সদস্যদের এহেন আচরণ যদি বন্ধ না হয়, তবে জননিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন সচেতন মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *