সর্বশেষ
ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬

পৌষের হিমেল সকালে শেরপুর গারো পাহাড়ে থেমে নেই কৃষক

Spread the love

‎‎‎‎আল-আমিন , শেরপুর জেলা প্রতিনিধি :‎‎

পৌষ মাসের কনকনে শীত। শেরপুর জেলার গারো পাহাড়ঘেঁষা সীমান্তবর্তী এলাকা—একপাশে ভারতের মেঘালয় রাজ্য, অন্যপাশে বিস্তীর্ণ বাংলার কৃষিজমি। চারপাশে কুয়াশার চাদরে ঢাকা পাহাড়ি জনপদে যখন মানুষ শীত থেকে বাঁচতে ঘরের ভেতর আশ্রয় নেয়, ঠিক তখনই এখানকার কৃষকরা নেমে পড়েন মাঠে। হিমেল বাতাস, পাহাড়ি ঠান্ডা পানি আর কাদামাটির কষ্ট উপেক্ষা করে তারা ব্যস্ত জমি চাষে।‎ভোরের আলো ফোটার আগেই গারো পাহাড়ের পাদদেশে শুরু হয় কৃষকের কর্মযজ্ঞ। কুয়াশায় ঢেকে থাকা জমিতে হাঁটুসমান কাদা ও ঠান্ডা পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে কোদাল চালান তারা।

প্রতিটি কোপে, প্রতিটি হালচাষে যেন বুনে দেন আগামীর স্বপ্ন—ভরপুর ধান, সবুজ ফসল আর পরিবারের মুখে হাসি। এই সীমান্তবর্তী জনপদের কৃষকরাই পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের খাদ্য জোগানের বড় ভরসা।‎স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, গারো পাহাড় এলাকার শীত সমতলের তুলনায় অনেক বেশি তীব্র। মেঘালয় রাজ্য ঘেঁষা হওয়ায় পাহাড় থেকে নেমে আসা হিমেল বাতাস ও কুয়াশা জমিতে কাজ করা আরও কঠিন করে তোলে। তবুও সময়মতো জমি প্রস্তুত না করলে বোরো ও রবি ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। তাই প্রতিকূল পরিবেশেও তারা কাজ চালিয়ে যান।‎এলাকাবাসী জানান, এসব কৃষকের ঘামেই টিকে আছে পাহাড়ঘেঁষা গ্রামগুলোর জীবনযাত্রা।

শীতের সকালে যখন অন্যরা বিশ্রামে থাকেন, তখন কৃষকেরা মাঠে নেমে দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে পরিশ্রম করেন।‎কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, সীমান্তবর্তী ও পাহাড়ি অঞ্চলের কৃষকদের জন্য বিশেষ সহায়তা জরুরি। উন্নত সেচব্যবস্থা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে এই অঞ্চলের কৃষি আরও সমৃদ্ধ হবে।‎পৌষের তীব্র শীত, গারো পাহাড়ের কুয়াশা আর সীমান্তের হিমেল বাতাস উপেক্ষা করে শেরপুরের এই কৃষকরা প্রমাণ করছেন—সবাই যখন থেমে যায়, তখনও কৃষক থেমে থাকেন না। বাংলার মাটিতে দাঁড়িয়েই তারা বুনে চলেছেন জীবনের স্বপ্ন ও দেশের ভবিষ্যৎ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *