পৃথিবীর ভূপৃষ্ঠের সবচেয়ে রহস্যময়, ভয়াবহ ও গভীরতম স্থান হলো পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের মারিয়ানা ট্রেঞ্চ. পৃথিবীর সর্বনিম্ন বিন্দু হিসেবে পরিচিত এই গভীর সমুদ্রখাদটির গভীরতা প্রায় ১১ হাজার মিটার, অর্থাৎ প্রায় সাত মাইল. বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বত এভারেস্টকেও যদি এখানে স্থাপন করা হয় তবে তার চূড়া সমুদ্রপৃষ্ঠের প্রায় সাত হাজার ফুট নিচে থাকবে.এই খাদটির গভীরতম অংশ ‘চ্যালেঞ্জার ডিপ’. বিজ্ঞানীদের মতে, সাগরের এই অংশে প্রতি বর্গ ইঞ্চিতে পানির চাপ পৌঁছে যায় প্রায় ৮ টনে. এ চাপ এতটাই ভয়ংকর যে সাধারণ ইস্পাত তাৎক্ষণিকভাবে বাঁকিয়ে ফেলতে পারে.১৯৬০ সালে বিখ্যাত অভিযাত্রী জ্যাক পিকার্ড ও ডন ওয়ালশ প্রথম মানববাহী ডুবযান নিয়ে নামেন এই গভীর খাদে. তাদের ব্যবহৃত বাথিসক্যাপ ট্রিয়েস্টো সেই প্রথম মানব ইতিহাসে সমুদ্রের অতল গহ্বরে পা রাখে. পরবর্তীতে বিশেষ প্রযুক্তি সম্পন্ন রোবট ও সাবমারসিবল ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা এখানে একাধিক অভিযান পরিচালনা করেছেন.অত্যন্ত অন্ধকার, প্রচণ্ড চাপ ও তীব্র নিম্নতাপমাত্রার কারণে এই খাদ এখনো রহস্যে ঘেরা. বৈজ্ঞানিক গবেষণায় কিছু বিরল সামুদ্রিক প্রাণীর অস্তিত্ব পাওয়া গেলেও নানা দাবি ও কাহিনি রয়েছে বিশাল অজানা প্রাণী কিংবা বিলুপ্ত মেগালোডনের উপস্থিতি নিয়ে. যদিও এ বিষয়ে নিশ্চিত প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি.অসংখ্য অভিযান, স্যাটেলাইট ম্যাপিং ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করেও মারিয়ানা ট্রেঞ্চ রয়ে গেছে অজানার রাজ্যে. বিজ্ঞানীরা বলছেন, পৃথিবীর পাশাপাশি মহাবিশ্বের রহস্য উন্মোচনের চাবিকাঠির অংশ থাকতে পারে এই অতল সমুদ্রেই.
পৃথিবীর গভীরতম অজানা জগৎ এখনো রহস্যময়!এভারেস্টও ডুবে যাবে নিচে পৃথিবীর এই জায়গায়

