সর্বশেষ
ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬

নাসিরনগরে ৭৪ তম শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে জনতার ঢল, সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধাঞ্জলি

Spread the love

‎‎মোঃ সাইফুল ইসলাম, ব্রাক্ষণবাড়ীয়া জেলা প্রতিনিধি:

‎‎ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার হাওর বেষ্টিত নাসির নগর উপজেলায় যথাযোগ্য মর্যাদায় ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা জাতীয় শহীদ দিবস অমর একুশে ফেব্রুয়ারি।‎‎আজ শনিবার ২১ ফেব্রুয়ারি, মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। ভাষা আন্দোলনের ৭৪ বছর পূর্ণ হলো আজ। নাসির নগর কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের মুল বেদিতে ফুল দিয়ে এবং নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতি একুশের মহান শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান সর্বস্তরের মানুষ।‎‎

রাত ১২টা ১ মিনিটে নাসিরনগর উপজেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে মহান একুশের কর্মসূচি শুরু হয়।আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা শহীদ দিবস উদযাপন উপলক্ষে ৫২ ভাষা শহীদদের প্রতি প্রথমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ব্রাহ্মণবাড়ীয়া -১ নাসিরনগর সংসদীয় ২৪৩ আসনের নব নির্বাচিত সংসদ সদস্য জননেতা এম এ হান্নান সহ উপজেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীবৃন্দ, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ, পুলিশ, আনসার- বিডিপি, উপজেলা বিএনপি, যুবদল, কৃষক দল, স্বেচ্ছাসেবক দল,ওলামাদল,ছাত্র দলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা কর্মীরা, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন,  বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষক, ছাত্র – ছাত্রী সহ সর্বস্তরের জনগণ শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।‎‎এছাড়াও কালো ব্যাজ ধারণ করে, প্রভাত ফেরি নিয়ে উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে স্থানীয় শহিদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও শ্রদ্ধা জানানো হয়।‎‎

জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা (ইউনেস্কো) মহান একুশের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি দেওয়ার পর থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও গত দুই দশকের বেশি সময় ধরে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।‎বাঙালি জাতির জন্য এই দিবসটি হচ্ছে চরম শোক ও বেদনার। অন্যদিকে মায়ের ভাষা বাংলার অধিকার আদায়ের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত।‎১৯৫২ সালের এদিনে ‘‘বাংলাকে’’ রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে বাংলার (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) ছাত্র ও যুবসমাজসহ সর্বস্তরের মানুষ সে সময়ের শাসক গোষ্ঠীর চোখ-রাঙানি ও প্রশাসনের ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাজপথে নেমে আসে।

মায়ের ভাষা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে দুর্বার গতি পাকিস্তানি শাসকদের শংকিত করে তোলায় সেদিন ছাত্র-জনতার মিছিলে পুলিশ গুলি চালালে সালাম, জব্বার, শফিক, বরকত ও রফিক গুলিবিদ্ধ হয়ে শহিদ হয়, আরো নাম না জানা অনেকই।‎‎২১ ফেব্রুয়ারি সরকারি ছুটি। এদিন দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ভবনে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সঠিক নিয়মে, সঠিক রং ও মাপে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত এবং কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়।‎

দিবসটি পালন উপলক্ষে জাতীয় অনুষ্ঠানের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে উপজেলার সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সরকারী বেসরকারী  প্রতিষ্ঠান,  উপজেলা প্রশাসন বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।‎‎এছাড়াও দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন উপলক্ষে বিভিন্ন সড়কে ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সুবিধাজনক স্থানে বাংলা ভাষার বর্ণমালা সম্বলিত ফেস্টুনে সাজানো হয়েছে।‎

একুশের বিশেষ অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার, শহীদ দিবসের ভাবগাম্ভীর্য রক্ষা, শহীদ মিনারের মর্যাদা সমুন্নত রাখা, সুশৃঙ্খলভাবে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ, ইত্যাদি জনসচেতনতামূলক বিষয়ে সরকারি ও বেসরকারি প্রয়োজনীয় প্রচারের ব্যবস্থা নিয়েছে।‎

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *