মোঃ শাহনুর রহমান লিমন, স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকাঃ
অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গত বছরের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে বহুমাত্রিক সংকটে পড়েছে জাতীয় পার্টি। পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের দোসর হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার পাশাপাশি দলীয় ভাঙন, অভ্যন্তরীণ বিভাজন ও রাজনৈতিক চাপের কারণে কোণঠাসা অবস্থায় রয়েছে দলটি।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কিছু মহলের সমন্বিত চেষ্টা জাতীয় পার্টিকে আসন্ন নির্বাচনের বাইরে রাখার উদ্যোগ। এমন বাস্তবতায় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা থাকলেও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে জাতীয় পার্টি।দলের নীতিনির্ধারকরা জানান, নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষ হয়েছে, এখন কেবল আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা।
এ লক্ষ্যে আজ বুধবার দলের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠক ডাকা হয়েছে। একই দিনে সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি।তবে নির্বাচন কমিশন ও সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে জাতীয় পার্টির একটি অংশ নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিরোধিতা করছে। বিশেষ করে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি দলটির মধ্যে নতুন করে শঙ্কা তৈরি করেছে। এ বিষয়ে জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, এখনো নির্বাচনে অংশগ্রহণের চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
বুধবার কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হলে সহিংসতার ঝুঁকি বাড়বে, যা প্রার্থী, সমর্থক ও ভোটারদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।দলীয় দপ্তর সূত্র জানায়, বুধবার থেকে টানা পাঁচ দিন সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র বিক্রি ও জমা দেওয়া হবে।
রোববার এ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর সোমবার থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার শুরু হবে। বিভাগভিত্তিক এই সাক্ষাৎকার পর্ব ২২ থেকে ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। সাক্ষাৎকার শেষে ২৫ ডিসেম্বর জাতীয় পার্টির চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে। মনোনয়ন ফরমের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ হাজার টাকা।এদিকে নির্বাচন কমিশন গত ১১ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করেছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২৯ ডিসেম্বর এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২০ জানুয়ারি। চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ও প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ২১ জানুয়ারি।জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য মীর আব্দুস সবুর আসুদ বলেন, দল নীরবে নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকের পরই আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী কার্যক্রমে প্রবেশ করবে জাতীয় পার্টি।

