জহুরুল হক জনি, স্টাফ রিপোর্টার:
লালমনিরহাট সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী নবাবেরহাট এর প্রাণকেন্দ্রে নির্মিত এনসিডিপি হোলসেল কৃষিপণ্য মার্কেট এখন এক পরিত্যক্ত ভবনে রূপ নিয়েছে।কৃষি বিপণন অধিদপ্তর এর পরিচালনায় এই হোলসেল মার্কেটটি নির্মাণ করা হলেও দীর্ঘদিন ধরে এখানে কোনো কার্যক্রম নেই।ভিতরে নেই কোন কৃষিপণ্য, নেই বিক্রেতা কিংবা ক্রেতার পদচারণা সবমিলিয়ে এটি যেন এক ভুতুড়ে বাড়ি।
সরকারি অর্থে নির্মিত এ মার্কেটের উদ্দেশ্য ছিল কৃষকদের উৎপাদিত কাঁচামাল ও কৃষিপণ্য যেন সরাসরি পাইকারি দরে বিক্রি করতে পারেন।কিন্তু বাস্তবে এর উল্টো চিত্র, শুরু থেকেই এর ব্যবস্থাপনায় পরিকল্পনার অভাব প্রকট। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও হাটে আগত বিক্রেতারা জানান, হাটের মাঝখানে এই মার্কেট অপরিকল্পিতভাবে নির্মাণ করায় হাটের চলাচলের জায়গা সংকুচিত হয়ে গেছে। এতে ভোগান্তিতে পড়ছেন হাটে আসা ক্রেতা ও বিক্রেতারা।
একজন সিনিয়র ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই মার্কেট হাটের উপকারে আসেনি বরং হাটের সৌন্দর্য আর কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে।এটা সরিয়ে নিলে হাটের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরত।নবাবেরহাট একসময় ছিল প্রাণবন্ত, ঐতিহ্যবাহী হাট। কিন্তু হোলসেল মার্কেটটির কারণে বর্তমানে হাট তার পুরনো গতি হারাচ্ছে, ধীরে ধীরে কমছে মানুষের উপস্থিতি।অথচ এই মার্কেট ঘিরে কৃষকদের জন্য উপকারের আশ্বাস ছিল।স্থানীয়দের দাবি, যদি মার্কেটটি বাস্তব পরিকল্পনায় চালু করা সম্ভব হয়, তবে তা কৃষকদের জন্য আশীর্বাদ হতে পারে।
অন্যথায় এটি সরিয়ে নেওয়া বা অন্যত্র স্থানান্তর করে হাটের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানাচ্ছেন তারা।প্রশ্ন থেকে যায় সরকারি অর্থ ব্যয়ে গড়ে তোলা এ স্থাপনার দায়ভার কে নেবে…?এবং কবে ফিরবে নবাবেরহাটের সেই প্রাণচঞ্চল পরিবেশ..?
হাটের ইজারাদার জানান, যথাযথ ব্যবস্হাপনার মাধ্যমে হোলসেল মার্কেটটি চালু করা হোক, নাহলে এটি অপসারণ করে হাটের মূল কার্যক্রম পুনরুদ্ধার করা হোক।এই বিষয়ে কৃষি বিপণন কর্মকর্তা জানান, চলতি অর্থবছরে নবাবেরহাট হোলসেল মার্কেটটি সংস্কার করে কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

