সর্বশেষ
এপ্রিল ১৩, ২০২৬

দৈনিক আয় ২৫ হাজার টাকা! টেলিগ্রাম প্রতারক চক্রের চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস।

Spread the love

ডেস্ক রিপোর্ট, newsbd24live:


​টেলিগ্রাম অ্যাপ ব্যবহার করে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের নামে ভুয়া বিনিয়োগ গ্রুপ পরিচালনার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কোটি টাকা আত্মসাৎকারী চক্রের আরও দুই সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

গ্রেফতারকৃতরা ভুয়া প্রলোভন দেখিয়ে এবং অভিনব কৌশলে অর্থ পাচার ও আত্মসাতের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।


​সিআইডির ঢাকা মেট্রো পূর্ব বিভাগের একটি বিশেষ দল গত ২৬ ও ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর জেলায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা হলো—ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ এলাকার রনজিত বসাক রওনক (২৫) এবং দিনাজপুরের সুইহারী এলাকার পলাশ চন্দ্র বসাক (৪০)।


​সিআইডি সূত্র জানায়, এর আগে পল্টন থানায় দায়ের করা একটি মামলার (মামলা নং-১০, তারিখ-০৪/০৯/২০২৫) তদন্তে চক্রের মূলহোতা ফারদিন আহমেদ ওরফে প্রতীক এবং তার সহযোগী মো. সাগর আহমেদকে গ্রেফতার করা হয়। আদালতে দেওয়া তাদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে রনজিত ও পলাশের নাম উঠে আসে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
​তদন্তে জানা যায়, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে টেলিগ্রামে ‘বিদেশি বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্ম’ নামে বিভিন্ন গ্রুপ খুলে মানুষকে অল্প সময়ে অধিক মুনাফার লোভ দেখাত। বিশ্বাস অর্জনের জন্য চক্রের নিজস্ব সদস্যরা ভুয়া আইডি ব্যবহার করে মিথ্যা লাভের স্ক্রিনশট ও সাফল্যের গল্প পোস্ট করত।

সাধারণ মানুষ এতে প্রলুব্ধ হয়ে বিভিন্ন ব্যাংক একাউন্ট ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসে (এমএফএস) টাকা পাঠাত। পরবর্তীতে সেই টাকা আত্মসাৎ করে গ্রুপগুলো নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হতো।


​অর্থ আত্মসাতের পর তা বৈধ বা ‘ক্যাশ আউট’ করার জন্য চক্রটি অত্যন্ত অভিনব কৌশল অবলম্বন করত। প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত টাকা দিয়ে তারা বিভিন্ন শোরুম থেকে ব্যাংকিং চ্যানেলে গাড়ি ক্রয় করত। এরপর খুব দ্রুত সেই গাড়ি কম দামে বিক্রি করে কাগজে-কলমে লোকসান দেখিয়ে নগদ টাকা তুলে নিত। মূলত ডিজিটাল ফিন্যান্সিয়াল ট্রেইল বা অর্থের গতিপথ আড়াল করতেই তারা এই পদ্ধতি ব্যবহার করত।


​গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে সিআইডি জানায়, রনজিত বসাক রওনক টেলিগ্রাম গ্রুপের নির্দেশনায় আর্থিক লেনদেন তদারকি করত। অন্যদিকে, পলাশ চন্দ্র বসাক চক্রের মূলহোতা ‘মিশন’-এর ম্যানেজার হিসেবে কাজ করত। কমিশন ভিত্তিতে কাজ করা পলাশের দৈনিক ন্যূনতম আয় ছিল ১,৫০০ টাকা। তবে লেনদেন বেশি হলে সে দিনে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কমিশন পেত। সে নিজের নামে একাধিক সিম কার্ড তুলে এই অপরাধ কার্যক্রম পরিচালনা করত।


​গ্রেফতারকৃত আসামিদের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদনসহ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। সিআইডির ঢাকা মেট্রো পূর্ব বিভাগ মামলাটির অধিকতর তদন্ত অব্যাহত রেখেছে এবং চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান চলমান রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *