মোঃ শাহনুর রহমান লিমন, স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকাঃ
ফেনীর সোনাগাজীতে নির্বাচনী প্রচারের নামে কোরআন শরীফ ব্যবহার করে শপথ করিয়ে নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে মহিলা জামায়াতের বিরুদ্ধে। তবে জামায়াত বলছে, তারা নিয়মিত কোরআন শিক্ষার ক্লাস করছিল এবং সেখানে যুবদলের নেতাকর্মীরা বাধা দিয়েছেন।সোমবার (১২ জানুয়ারি) বিকেলে সোনাগাজী পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে পৌর জামায়াত নেতা কাশেম মিয়ার বাড়িতে মহিলা জামায়াতের কয়েকজন নেতাকর্মী সমবেত হন।
অভিযোগ অনুযায়ী, আশপাশের কিছু নারীকে কোরআন শিক্ষার ক্লাসের দাওয়াত দিয়ে সেখানে এনে কোরআন শরীফ ছুঁয়ে শপথ করিয়ে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার অঙ্গীকার করানো হয়।এক পর্যায়ে কয়েকজন নারী সেখান থেকে চলে যেতে চাইলে বাধা দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে আমন্ত্রিত নারীরা স্বজনদের ফোন করে উদ্ধারের অনুরোধ জানান।
খবর পেয়ে স্থানীয় যুবদলের কয়েকজন নেতাকর্মী ঘটনাস্থলে যান।যুবদলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, কোরআন শিক্ষার আড়ালে ভোট প্রার্থনা করা হচ্ছে এবং জান্নাত জাহান্নামের ভয় দেখিয়ে প্রতিশ্রুতি আদায়ের চেষ্টা চলছে। যুবদলনেতা নুর আলম জিকু, এনাম ও ইকবালসহ অন্যরা এটিকে নির্বাচনি আচরণবিধির লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেন।অন্যদিকে মহিলা জামায়াতের নেতারা বলেন, সেখানে কোনো রাজনৈতিক কার্যক্রম ছিল না শুধু নিয়মিত কোরআন শিক্ষার ক্লাস চলছিল।
পরে পৌর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি নূরনবী ঘটনাস্থলে এসে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করেন।সোনাগাজী উপজেলা যুবদল সভাপতি খুরশিদ আলম ভূঁঞা বলেন, ‘কোরআন শিক্ষার নামে ভোট চাওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। কোরআন কারও একার সম্পত্তি নয়।’সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বিষয়টি সেখানেই নিষ্পত্তি হয়েছে বলে তিনি জানান।

