মোঃ শাহনুর রহমান লিমন, স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকাঃ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই রাজনৈতিক অঙ্গনে জোট গঠন ও আসন বণ্টন নিয়ে জটিল সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। সমমনা দলগুলোর মধ্যে সমঝোতার বদলে দূরত্ব ও অসন্তোষ স্পষ্টভাবে বেড়ে উঠছে।বিএনপি ইতোমধ্যে দুই দফায় ২৭২টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। যদিও সহযোগী দলগুলোর জন্য ২৮টি আসন ফাঁকা রাখা হয়েছে, তবু গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি আসনে বিএনপির প্রার্থী দেওয়ায় শরিক দলগুলো তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।
অভিযোগ উঠেছে বিএনপি প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করার আগে শরিকদের মতামত নিলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের সম্পৃক্ত করেনি। ফলে যুগপৎ আন্দোলনে দীর্ঘদিনের সঙ্গীরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। বিএনপির এই সিদ্ধান্তের পর লেবার পার্টি সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। গণতন্ত্র মঞ্চের নেতারাও উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, বিএনপি তার পুরনো অঙ্গীকার থেকে সরে এলে রাজনৈতিক দূরত্ব আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
ইসলামী দলগুলোর পরিস্থিতিও অনিশ্চিত। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে ৮টি ইসলামী দলের জোট থাকলেও আসন বণ্টনে কোনো ঐকমত্য তৈরি হয়নি। জামায়াত স্বতন্ত্রভাবে ৩০০ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করায় সমঝোতার সম্ভাবনা আরও জটিল হয়েছে।এদিকে এনসিপি, এবি পার্টি, গণঅধিকার পরিষদসহ কয়েকটি দল পৃথক জোট গঠনের চেষ্টা করলেও অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যের কারণে ঘোষণা পিছিয়ে যাচ্ছে। নেতৃত্ব ও আসন ভাগাভাগি নিয়ে অস্থিরতাই প্রধান কারণ।
বামপন্থি কয়েকটি দলও একটি পৃথক বলয় তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। যদিও তাদের নির্বাচনী প্রভাব সীমিত, তবুও রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রাখতে তারা সক্রিয় আলোচনায় আছে।এ ছাড়া আওয়ামী লীগের ১৪ দলের শরিকদের কার্যক্রমও অস্পষ্ট। জাতীয় পার্টি (জাপা) পৃথক জোট গঠনের আলোচনায় রয়েছে এবং পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানা গেছে।
সব মিলিয়ে, নির্বাচন কমিশনের সম্ভাব্য ১১ ডিসেম্বরের তফসিল ঘোষণার আগে দেশের জোট রাজনীতি এক অনিশ্চিত ও বিভক্ত পরিস্থিতির দিকে এগোচ্ছে। সমঝোতার বদলে মতানৈক্যই এখন বেশি দৃশ্যমান। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আগামী কয়েকদিনের ভেতর সমীকরণ আরও স্পষ্ট হলেও বর্তমান টানাপড়েন নির্বাচনের সামগ্রিক পরিবেশকে অনিশ্চয়তায় ফেলছে।

