ডেস্ক রিপোর্ট, newsbd24live:
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা যেন থামছেই না, বরং তা নতুন করে এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে যাচ্ছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু আবারও ইরানকে কঠোর ভাষায় সতর্ক করে দিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরান যদি তেল আবিবে হামলা চালানোর মতো কোনো ভুল সিদ্ধান্ত নেয়, তবে তাদের এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে, যা তারা ইতিহাসে আগে কখনো দেখেনি।
মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহু এই চরম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, এটা সত্য যে ইরানি অক্ষ বা তাদের মিত্ররা পুনরায় সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু আমরা তাদের সেই সুযোগ দেব না। ইরান যদি ইসরায়েলে আক্রমণের মতো মারাত্মক ভুল করে, তবে আমরা এমন শক্তি দিয়ে জবাব দেব, যা ইরানের কল্পনারও বাইরে।
নেতানিয়াহুর এই বক্তব্যের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রশাসনের ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রসঙ্গ টেনে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার সিদ্ধান্ত নেবেন এবং ইসরায়েল রাষ্ট্র তার নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেবে।
তবে আমরা পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছি এবং যেকোনো পরিস্থিতির মোকাবিলার জন্য আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার কূটনৈতিক এবং সামরিক উত্তেজনাও তুঙ্গে পৌঁছেছে। পশ্চিম এশিয়ার জলসীমায় মার্কিন রণতরী পৌঁছানোর পর থেকেই পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। এর প্রেক্ষিতে ইরানের ইসলামিক রিভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) তাদের প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য কড়া সতর্কবার্তা জারি করেছে।
আইআরজিসি-এর নৌবাহিনীর রাজনৈতিক উপ-প্রধান মোহাম্মদ আকবরজাদেহ ফারস নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলো আমাদের বন্ধু। কিন্তু তাদের মাটি, আকাশ বা জলসীমা যদি যুক্তরাষ্ট্রের দ্বারা ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়, তবে সেই দেশগুলোকে শত্রু বা বৈরী রাষ্ট্র হিসেবে গণ্য করা হবে।
ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের মূল চাবিকাঠি হলো ইরাক ও ইয়েমেনে তাদের সমর্থিত মিলিশিয়া বাহিনীগুলো। তেহরান এই গোষ্ঠীগুলোকে ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব মোকাবিলা এবং আঞ্চলিক সংঘাতের গতিপথ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। এর মধ্যে ইরাকের পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ) অন্যতম, যার বেশ কিছু দল সরাসরি আইআরজিসি-এর সঙ্গে যুক্ত।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র হারাকাত আল-নুজাবা এবং কাতাইব হিজবুল্লাহসহ চারটি ইরান-সমর্থিত ইরাকি মিলিশিয়া গোষ্ঠীকে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে।
কাতাইব হিজবুল্লাহ প্রকাশ্যেই ঘোষণা দিয়েছে যে, তাদের অন্যতম লক্ষ্য হলো ইরাক থেকে মার্কিন সেনাদের বিতাড়িত করা।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নেতানিয়াহুর এই হুমকি এবং ইরানের পাল্টা সতর্কবার্তা মধ্যপ্রাচ্যকে আবারও এক বড় যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনামলে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি এই সংঘাতকে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
তথ্যসূত্র: WION

