মোঃ শাহনুর রহমান লিমন, স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকাঃ
বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর প্রায় ২৯ বছর পর আদালতের নির্দেশে দায়ের হওয়া হত্যা মামলাটি আবার নতুন মোড় নিয়েছে। ২০২৫ সালের ২১ অক্টোবর প্রয়াত নায়কের মামা আলমগীর কুমকুম মামলাটি দায়ের করেন। এতে সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামিরা হকসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়।
প্রথম ধাপে রমনা থানার ইন্সপেক্টর আতিকুল আলম খন্দকার মামলার তদন্ত শুরু করলেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি আসেনি। তিন মাস পর তদন্তের দায়িত্ব সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে সিআইডির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মামলার সব নথিপত্র সংগ্রহের পরই কার্যকর তদন্ত শুরু হবে।মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সামিরা হক, তার মা লতিফা হক লুসি, বিতর্কিত ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, চলচ্চিত্রের খলনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল হক ওরফে ডন/ডেভিডসহ আরও কয়েকজন।
এদের কেউ বিদেশে অবস্থান করছেন, কেউ আত্মগোপনে। সামিরা, লুসি ও ডনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি থাকলেও এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।প্রাথমিক তদন্ত কর্মকর্তা আতিকুল আলম খন্দকার জানান, সামিরা হক এই মামলার গুরুত্বপূর্ণ আসামি। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা গেলে অনেক অজানা তথ্য সামনে আসতে পারে। সিআইডির নতুন তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক জিয়াউল মোরশেদ বলেন, নথিপত্র হাতে পেলেই তদন্তের গতি আসবে।উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার ইস্কাটনের বাসায় সালমান শাহকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। দীর্ঘদিন ধরে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে বিবেচিত হলেও তার মা নীলা চৌধুরী শুরু থেকেই হত্যার দাবি করে আসছিলেন।
পুলিশের একাধিক তদন্ত, সিআইডি, বিচার বিভাগীয় তদন্ত ও পিবিআই সব সংস্থার প্রতিবেদনে আত্মহত্যার কথা বলা হলেও পরিবার তা মেনে নেয়নি।মায়ের রিভিশন আবেদনের পর ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর আদালত ঘটনাটিকে হত্যা মামলা হিসেবে রূপান্তরের নির্দেশ দেন। এরপরই নতুন করে মামলা দায়ের হয়। ২০১৭ সালে ইউটিউবে প্রকাশিত এক ভিডিওতে রুবি নামে এক নারীর অভিযোগ, এবং রেজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও মামলায় নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয়।
সবশেষে আবার সিআইডির হাতে তদন্তের দায়িত্ব এলেও কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে প্রায় তিন দশক পর কি আদৌ উন্মোচিত হবে সালমান শাহর মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য, নাকি এই ঘটনাও থেকে যাবে অমীমাংসিত অধ্যায় হয়ে?

