ডেক্স রিপোর্ট
newsbd24live:
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) সংসদীয় আসনে রাজনৈতিক উত্তাপ এখন তুঙ্গে। এই আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) কৌশলগত সমর্থনে জোটের প্রার্থী হিসেবে জমিয়ত নেতা মাওলানা জুনায়েদ আল-হাবীবের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার বিষয়টি অনেকটা নিশ্চিত বলে জানা গেছে।
তবে দলীয় সমীকরণের এই স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে নিজের অনড় অবস্থানের জানান দিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। দলীয় মনোনয়ন না পেলেও তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন।
সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়নের বিটঘর বাজারে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় আয়োজিত ওই দোয়া মাহফিল ও সভায় ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা তার অবস্থান পরিষ্কার করেন।
বক্তব্য প্রদানকালে রুমিন ফারহানা স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণের উদ্দেশে বলেন, আমি যা বলি, আমি তা-ই করি। এই সিদ্ধান্ত ভালো কি মন্দ, তা নিয়ে এখন আর আমার কিছু করার নেই। আপনারা যদি আমার পাশে থাকেন, তবে মার্কা যা-ই হোক না কেন, আমি নির্বাচন করব। আমি সরাইল-আশুগঞ্জ থেকেই নির্বাচন করব ইনশাআল্লাহ।
তার এই বক্তব্যের পর থেকেই স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নানা গুঞ্জন। দলের হাইকমান্ড যেখানে জোটের স্বার্থে মাওলানা জুনায়েদ আল-হাবীবকে সমর্থন দেওয়ার পরিকল্পনা করছে, সেখানে রুমিন ফারহানার এমন প্রকাশ্য ঘোষণা বিএনপির স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা যদি শেষ পর্যন্ত স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে থাকেন, তবে এই আসনে ত্রিমুখী ও হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা তার বাগ্মীতা এবং সংসদে বলিষ্ঠ ভূমিকার জন্য জাতীয় রাজনীতিতে বেশ পরিচিত মুখ। অন্যদিকে মাওলানা জুনায়েদ আল-হাবীব হেফাজতে ইসলাম ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রভাবশালী নেতা হিসেবে এই এলাকায় নিজস্ব ভোটব্যাংক ধরে রেখেছেন। এখন দেখার বিষয়, নির্বাচনের চূড়ান্ত মনোনয়ন ও প্রতীক বরাদ্দের সময় এই আসনের রাজনৈতিক চিত্র কোন দিকে মোড় নেয়।

