সর্বশেষ
ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬

জাবির প্রাক্তন কর্মচারীর বিরুদ্ধে এক কিশোরীকে জোড়পূর্বক বাসায় নেওয়ার অভিাযোগ

Spread the love

আরাফাত হোসাইন,জাবি প্রতিনিধি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সাবেক এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে এক কিশোরীকে জোরপূর্বক বাসায় নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ওই কর্মচারীর নাম সালাউদ্দিন আহমেদ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ভবনের কাউন্সিল শাখায় সহকারী ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন এবং ২০১৬ সারে অবসর গ্রহণ করেন। প্রত্যক্ষসূত্রে জানা যায়, গত ৯ নভেম্বর রাত আনুমানিক ৮টার দিকে আল-বেরুনী হলের সামনে সালাউদ্দিন নামের ওই ব্যক্তি নাসিমা আক্তার (১৫) নামের এক কিশোরীকে ইসলামনগরে তার নিজের বাসায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। এসময় হলের কয়েকজন শিক্ষার্থী বিষয়টি লক্ষ্য করে কিশোরীকে উদ্ধার করেন। পরে শিক্ষার্থীরা তাদেরকে জাকসু ভবনে নিয়ে যান। সেখান থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখায় মুচলেকা নেওয়ার পর উভয়কে ছেড়ে দেওয়া হয়।এদিকে স্থানীয়দের কাছে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সালাউদ্দিনের স্ত্রী‘র মৃত্যুর পর তিনি দ্বিতীয়বার বিয়ে করেন। কিন্তু তার চারিত্রিক ও আচরণগত সমস্যার কারণে সেই সম্পর্ক বেশি দিন টেকেনি। তার দ্বিতীয় স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যায়। এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, বিভিন্ন সময় তিনি কিশোরী ও নারীদের বাসায় নিয়ে আসতেন এবং রাত্রী-যাপন করতেন। এমনকি তার এসব কর্মকান্ডের বিষয়ে ইসলামনগরের বাসিন্দারাও অবগত থাকার কথা জানান।এছাড়া তার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত অবস্থায় আওয়ামীলীগের মদদে চাকুরী নিয়ে দেওয়া, জমি ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়ে দেওয়ার কথা বলে বেশ কয়েকজনের কাছ থেকে প্রতারণা করে লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমি কোন কিশোরীকে বাসায় আনার চেষ্টা করিনি। উনি আমার স্ত্রী। আমার সাথে একটু মন-মালিণ্য হওয়ার কারণে সে বাসা থেকে চলে যেতে চাচ্ছিল। এজন্য সে জাহাঙ্গীরনগরে পিঠা খেতে যেতে চাইলে আমি তার সাথে আমার পাশের বাসার এক ভাড়াটিয়াকে পাঠাই। কিছুক্ষণ পর ভাড়াটিয়া ফোন করে বলে সে সেখান থেকে চলে যেতে চাইছে। পরে আমি সেখানে গেলে সে আমাকে দেখে দৌড়ে পালাতে চেষ্টা করে। আমি তাকে আটকানোর চেষ্টা করি। এজন্য সেখানে থাকা শিক্ষার্থীরা আমাদের ঝামেলা মেটানোর জন্য প্রথমে জাকসু ও পরে নিরাপত্তা অফিসে নিয়ে যায় এবং আমাদের নাম ঠিকানা লিখে নিয়ে আমাদের ছেড়ে দেয়। আমি আমার স্ত্রী-কে নিয়ে বাসায় চলে আসি।তার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগের কথা বলা হলে তিনি তা অস্বীকার করে বলেন, ‘এগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন। এমন কোন কর্মকান্ডের সাথে আমি জড়িত ছিলাম না।’তার সন্তানদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এসব অভিযোগ ও আচরণজনিত সমস্যার কারণে তারা সামাজিকভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। সন্তানদের দাবি, তার বাবার এমন কর্মকাণ্ডের সাথে তাদের কোন সম্পর্ক নেই এবং এসবের দায় তাদের নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *