সর্বশেষ
মার্চ ২১, ২০২৬

ছিনতাইকারীর হামলায়, ট্রেন থেকে নেমেই প্রাণ গেল যাত্রীর, জনমনে তীব্র ক্ষোভ

Spread the love

মাহিন আহমেদ ,কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি ;

কিশোরগঞ্জের ভৈরব রেলস্টেশন যেন আবারও রক্তে রঞ্জিত হলো। রাতের এগারোসিন্দুর ট্রেন থেকে নেমে ছিনতাইকারীর হামলার শিকার হয়ে এক নিরীহ যাত্রী নির্মমভাবে নিহত হয়েছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।নিহত যুবকের বাড়ি কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার কর্শা কড়িয়াল গ্রামে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ট্রেন থেকে নামার পরপরই কয়েকজন ছিনতাইকারী তার পথরোধ করে। মুহূর্তেই ছুরি ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে পালিয়ে যায় তারা।

গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।রেলস্টেশন এখন আতঙ্কের নামভৈরব রেলস্টেশন শুধু যাতায়াতের কেন্দ্র নয়, এটি হাজারো মানুষের জীবনের আশা-ভরসার পথ। অথচ দিনের আলো নিভলেই এখানে নামছে ভয় আর অনিশ্চয়তার অন্ধকার। যাত্রীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই স্টেশন এলাকায় ছিনতাইকারী চক্র সক্রিয় থাকলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।স্বজনদের আহাজারি, জনতার প্রতিবাদনিহতের স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে হাসপাতাল প্রাঙ্গণ।এক স্বজন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,“আমার ভাই জীবিকা আর স্বপ্ন নিয়ে ঘর ফিরছিল, লাশ হয়ে ফিরবে এটা আমরা কল্পনাও করিনি।”ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভের ঝড় উঠেছে। সাধারণ মানুষ অবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন।প্রশাসনের প্রতি চার দফা জরুরি দাবিনাগরিক সমাজ ও সচেতন মহল প্রশাসনের প্রতি জোরালোভাবে দাবি জানিয়েছেন—১. স্টেশন এলাকায় ২৪ ঘণ্টা রেল পুলিশ ও থানা পুলিশের যৌথ টহল২. সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও কার্যকর মনিটরিং সেল চালু৩. ছিনতাইকারী চক্রের তালিকা তৈরি করে বিশেষ অভিযান৪. রাতের ট্রেনের সময় অতিরিক্ত নিরাপত্তা টিম মোতায়েনসামাজিক আন্দোলনের ডাকএই হত্যাকাণ্ড কেবল একটি পরিবারের নয়, পুরো সমাজের ওপর আঘাত।

তাই সচেতন নাগরিকরা মানববন্ধন, প্রতিবাদ সমাবেশ ও স্বাক্ষর সংগ্রহ কর্মসূচির মাধ্যমে একটি ভয়মুক্ত ভৈরব রেলস্টেশন আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্যপুলিশ সূত্র জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং অপরাধীদের শনাক্ত করতে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে জড়িতদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন।যেখানে ট্রেন থামে, সেখানে থামা উচিত নিরাপত্তাহীনতা নয়। রাষ্ট্রের দায়িত্ব নাগরিকের প্রাণ রক্ষা করা। আজ ভৈরবে এক তরুণের রক্ত প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছে—আর কত প্রাণ গেলে জাগবে নিরাপত্তার বিবেক?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *