সর্বশেষ
ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ‘কসবা গ্রাম’ যেখানে প্রতিটি বাড়িতে হ্যামেলিনের বাঁশি নয়, শোনা যায় গরুর ডাক

Spread the love

মোঃ ইসমাইল হোসেন, নাচোল প্রতিনিধি :

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার একটি সাধারণ গ্রাম কসবা। তবে এর বিশেষত্ব গ্রামটিকে আর দশটা গ্রাম থেকে আলাদা করে তুলেছে। এই গ্রামের এমন কোনো বাড়ি খুঁজে পাওয়া দুষ্কর, যেখানে গরু পালন করা হয় না। প্রতিটি আঙিনায় গড়ে উঠেছে ছোট-বড় গোয়ালঘর।

গ্রামটি এখন স্থানীয়দের কাছে ‘গরুর গ্রাম’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।কসবা গ্রামের বাসিন্দাদের প্রধান নেশা এবং আয়ের উৎস এখন গবাদিপশু পালন। এক সময় যেসব পরিবার অভাব-অনটনে দিন কাটাত, গরু পালনের কল্যাণে আজ তারা স্বাবলম্বী। গ্রামের বাসিন্দারা জানান, এখানে কেউ শখের বসে, আবার কেউ বাণিজ্যিকভাবে গরু লালন-পালন করছেন।কসবা গ্রামের এক প্রবীণ বাসিন্দা কায়েস জানান, “আমাদের এই গ্রামে ঘর আছে অথচ গরু নেই—এমন দৃশ্য বিরল। কারো বাড়িতে দুটি, কারো বাড়িতে ১০টি, আবার কারো বড় খামারও আছে।

বাড়ির নারীরাও কাজের ফাঁকে গরুর যত্ন নেন।এই গ্রামটি এখন স্থানীয় দুগ্ধ ও মাংসের চাহিদার বড় একটি অংশ পূরণ করছে। প্রতিদিন ভোরে গ্রাম থেকে শত শত লিটার দুধ চলে যায় স্থানীয় বাজারে এবং মিষ্টির দোকানগুলোতে। শুধু দুধ নয়, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে এখানে গরু মোটাতাজাকরণের ধুম পড়ে যায়।গ্রামবাসীদের মতে, অল্প পুঁজিতে লাভজনক হওয়ায় তারা এই পেশায় আগ্রহী হয়েছেন।

এছাড়া গ্রামের শিক্ষিত বেকার যুবকরাও এখন চাকরির পেছনে না ছুটে আধুনিক পদ্ধতিতে গরু পালন শুরু করেছেন। এই বিষয়ে নাচোল উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ কাওসার আলী বলেন…তবে পশুখাদ্যের ক্রমবর্ধমান দাম নিয়ে কিছুটা চিন্তিত খামারিরা। তারা মনে করেন, যদি সরকারিভাবে খাদ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়, তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের এই নাচোলের ‘কসবা’ অন্য গ্রামগুলোর জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হবে।কঠোর পরিশ্রম আর সঠিক দিকনির্দেশনা থাকলে যে একটি গ্রাম পুরো এলাকার অর্থনীতিতে আমূল পরিবর্তন আনতে পারে, তার প্রমাণ এই ‘কসবা গ্রাম’।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *