গত এক বছরে অর্থনীতিতে অদ্ভুত উত্থান ঘটেছে — “গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী” সময়কে এক বিশ্লেষণীয় অবস্থান ধরে আমরা দেখেছি যে, বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) ১৯.১৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সাধারণ ধাঁচ থেকে সম্পূর্ণ বিপরীতে গিয়ে এমন অর্জন, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী ও অর্থনীতিবিদদের চোখে বাংলাদেশের প্রতি আস্থার সাক্ষাৎ বহন করে।বিশ্ব ব্যাঙ্কের ও সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক ডাটাবেস বিশ্লেষণ করলে দেখা গেছে, সাধারণত গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী এক বছরে অনেক দেশে এফডিআই হ্রাস পেয়েছে — যেমন: শ্রীলঙ্কা-তে ১৯.৪৯ % হ্রাস, চিলি-তে ২৫.৬৮ % হ্রাস, সুদান-এ ২৭.৬০ % হ্রাস, ইউক্রেন-এ ৬১.২১ % হ্রাস এবং মিশর-এ ১০৭.৫৫ % হ্রাস রেকর্ড করা হয়েছে। তবে আমাদের দেশের হিসেবে উল্টো চিত্র দেখা গেছে — বিনিয়োগকারীরা কি দেখছেন, কেন তারা আসছেন?এই তথ্য পর্যবেক্ষণে, বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিআইডা)-র নির্বাহী চেয়ারম্যান (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) জনাব আশিক চৌধুরী বলেন- “বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো শত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বাউন্স-ব্যাক করার অদ্ভুত ক্ষমতা। এই পরিসংখ্যান সেই প্রতিফলন। সাধারণত গণঅভ্যুত্থানের পর বিদেশী বিনিয়োগ প্রচণ্ডভাবে হ্রাস পায়। কিন্তু আমরা দেখছি উল্টো। সঠিক অর্থনৈতিক নীতি সেট করা থেকে শুরু করে বাংলাদেশ ব্যাংক, এনবিআরসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার আন্তরিকতা, আমাদের প্রাইভেট সেক্টরের অদম্য স্পৃহা, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এটি সম্ভব হয়েছে। আমরা সব সময় বিনিয়োগকারীদের সহযোগিতায় আপ্রাণ চেষ্টা করেছি। সব সমস্যার সমাধান হয়নি অবশ্যই। তবে সদিচ্ছার কোনো ঘাটতি ছিল না। শীঘ্রই সারাবছর-আমলনামা (রিপোর্ট কার্ড) প্রকাশ করবো।”এই অর্জনের পেছনে কয়েকটি প্রধান কারণ খতিয়ে দেখা যাচ্ছে:নিয়োগ-বান্ধব নীতি প্রণয়ন: দ্রুত অনুমোদন, ইনভেস্টরদের জন্য সুবিধাজনক প্যাকেজ ও প্রাসঙ্গিক আইন-নীতি প্রণয়ন।নির্বাহক সংস্থার কর্মকাণ্ড: বাংলাদেশ ব্যাংক, এনবিআর সহ অন্য নিয়ন্ত্রক ও প্রয়োগকারী সংস্থার কার্যকর উদ্যোগ।নিজেদের প্রাইভেট সেক্টরের সচেতনতা ও চ্যালেঞ্জ গ্রহণক্ষমতা: দেশে বিনিয়োগকারীরা যে উচ্চ মাত্রায় প্রবল আগ্রহ দেখাচ্ছেন, তা স্পষ্ট।অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ও বাজারপ্রতিরোধী স্পৃহা: জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যে ধরনের সংকট-আত্মমর্যাদার পরিবেশ দেখা যাচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশ সবচেয়ে অনুকূল অবস্থানে রয়েছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।তবে সতর্ক থাকতে হবে- এই মাত্রা ধরে রাখাই চ্যালেঞ্জ। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন, রাজনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন সবই সম্ভাব্য বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। সুতরাং, এই সফলতা একি শুধু বর্তমান সময়ের জন্য না হয়ে এক দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা হিসেবে বিবেচনা করার জন্য রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

