সর্বশেষ
ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬

ক্রিকেট ধ্বংসের নীল নকশা: নেপথ্যে কি রাজনৈতিক আধিপত্য?

Spread the love

ডেক্স রিপোর্ট:
​বাংলাদেশের ক্রিকেটের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ দর্শকদের মতো বোদ্ধারাও ক্লান্ত। কখনো জাতীয় দলের পারফরম্যান্স, আবার কখনো ঘরোয়া লিগ বিপিএল—সর্বত্রই যেন এক অদৃশ্য নাটকের মঞ্চায়ন। মাঠের খেলার চেয়ে মাঠের বাইরের রাজনীতিই এখন মুখ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি বোর্ড পরিচালক নাজমুল আবেদীন ফাহিম এবং ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াবের (CWAB) মধ্যকার দ্বন্দ্ব সেই আগুনে নতুন করে ঘি ঢেলেছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ঘটনার শেকড় আরও অনেক গভীরে।


​ঘটনার সূত্রপাত বোর্ড পরিচালক নাজমুল আবেদীন ফাহিমের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। সিনিয়র ক্রিকেটার তামিম ইকবালকে নিয়ে তার মন্তব্যের পর থেকেই পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। পরবর্তীতে তিনি সামগ্রিকভাবে ক্রিকেটারদের নিয়ে কথা বললে কোয়াব তীব্র আপত্তি জানায় এবং একপর্যায়ে ম্যাচ বয়কটের মতো কঠোর সিদ্ধান্তের দিকে এগোয়।


​তবে প্রশ্ন উঠেছে কোয়াবের বর্তমান নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে। বয়কটের ডাক দেওয়া কোয়াবের প্রতিনিধি হিসেবে সামনে এসেছেন শামসুর রহমান শুভ এবং মোহাম্মদ মিথুন। এদের মধ্যে শামসুর রহমান শুভর বিরুদ্ধে অতীতে ফিক্সিং কান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে, যা তার নৈতিক অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। অন্যদিকে, কোয়াবের সভাপতি মিথুনের দল বিপিএল থেকে প্রায় ছিটকে পড়ার পথে। এমতাবস্থায় তাদের নেতৃত্বে এমন কঠোর আন্দোলন কতটা ক্রিকেটের স্বার্থে আর কতটা ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীস্বার্থে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন অনেকেই।


​ক্রিকেট পাড়ার এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ে যমুনা টেলিভিশনের জ্যেষ্ঠ ক্রীড়া সাংবাদিক তাহমিদ অমিতের বিশ্লেষণ বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। বিসিবি এবং খেলোয়াড়দের এই দ্বন্দ্বে আসলে কে জিতল—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি মন্তব্য করেন, এখানে বিসিবি বা খেলোয়াড় কেউই জেতেনি। বরং জিতেছে তারা, যারা এই দুই পক্ষকে উসকে দিয়েছে।
​অনুসন্ধানে এবং ক্রিকেট সংশ্লিষ্টদের কথায় সেই ‘উসকানিদাতা’ হিসেবে বারবার উঠে আসছে সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালের নাম। একাধিক সূত্র ও রিপোর্ট অনুযায়ী, তামিম ইকবাল বর্তমান ক্রিকেট বোর্ডকে বৈধ বলে মনে করেন না। অভিযোগ রয়েছে, তার প্রভাবেই অনেক ক্রিকেটারকে রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার করে এবং জোরপূর্বক একটি পক্ষ নিতে বাধ্য করা হচ্ছে। রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে খেলোয়াড়দের ব্যবহার করার এক গভীর ষড়যন্ত্রের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।


​ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, এটি নতুন কোনো ঘটনা নয়। প্রতিটি বড় টুর্নামেন্ট বা বিশ্বকাপের আগেই দেশের ক্রিকেটে এমন অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করা যেন একটি নিয়মিত চিত্রে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে ২০২৩ বিশ্বকাপের আগে দলের ভেতর যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, তার ফলাফল ছিল ভয়াবহ। একটি শক্তিশালী স্কোয়াড নিয়েও বাংলাদেশ দলকে ফিরতে হয়েছিল করুণ দশা নিয়ে। আসন্ন চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগেও কি তবে একই নোংরা রাজনীতির পুনরাবৃত্তি ঘটছে?


​তামিম ইকবালের মতো একজন সিনিয়র ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ যদি সত্য হয়, তবে তা দেশের ক্রিকেটের জন্য অশনিসংকেত। বিশ্বকাপের আগে ব্যক্তিগত ইগো বা রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য ক্রিকেটকে জিম্মি করার এই সংস্কৃতি বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। সাধারণ ফ্যানরা আর নাটক দেখতে চায় না, তারা চায় মাঠের ক্রিকেট কলুষমুক্ত থাকুক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *