ডেস্ক রিপোর্ট
Newsbd24live:
টানা চতুর্থ বছরে গড়ানো ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে কৃষ্ণসাগর তীরবর্তী ওদেসা অঞ্চল। রাশিয়ার ক্রমাগত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ইউক্রেনের এই গুরুত্বপূর্ণ বন্দর নগরী। সাম্প্রতিক হামলায় ওদেসার বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার পাশাপাশি ধ্বংস হয়েছে বিপুল পরিমাণ খাদ্যশস্য এবং বন্দর অবকাঠামো।
গত সোমবার রাতে চালানো রুশ ড্রোন হামলায় ওদেসা বন্দরের বেসামরিক অবকাঠামো এবং একটি বাণিজ্যিক জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর আগের দিন রোববারের হামলায় প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। হামলার ফলে বন্দরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়, যাতে পুড়ে ছাই হয়ে যায় কয়েক ডজন কন্টেইনার ভর্তি আটা ও ভোজ্য তেল। ইউক্রেনের উপ-প্রধানমন্ত্রী ওলেক্সি কুলেবা জানিয়েছেন, মস্কো এখন পরিকল্পিতভাবে ওদেসার লজিস্টিক ব্যবস্থা ধ্বংসের চেষ্টা করছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন, রাশিয়ার মূল লক্ষ্য হলো ইউক্রেনের সমুদ্রপথের প্রবেশদ্বার পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া। তিনি বলেন, ওদেসার ওপর চাপ প্রয়োগ করে রাশিয়া প্রমাণ করছে যে তারা আগ্রাসন থামাতে মোটেও আগ্রহী নয়। এর আগে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, কৃষ্ণসাগরে রাশিয়ার ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা তেলবাহী ট্যাঙ্কারগুলোর ওপর ইউক্রেনের ড্রোন হামলার প্রতিশোধ হিসেবে সমুদ্রপথ বন্ধ করে দেওয়া হবে।
ওদেসা ইউক্রেনের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিয়েভ ও খারকিভের পর এটি দেশটির তৃতীয় বৃহত্তম শহর। রাশিয়া কর্তৃক জাপোরিঝঝিয়া, খেরসন ও মাইকোলাইভ অঞ্চলের বন্দরগুলো অবরুদ্ধ থাকায় বর্তমানে ওদেসাই ইউক্রেনের শস্য রপ্তানির একমাত্র ভরসা। ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে ওদেসা হয়ে রোমানিয়া ও বুলগেরিয়ার উপকূল দিয়ে তুরস্কে শস্য পাঠানোর করিডোর চালু রয়েছে। সাম্প্রতিক হামলায় সেই পথটিও হুমকির মুখে পড়েছে।
এদিকে, যুদ্ধের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে আয়োজিত কূটনৈতিক বৈঠক কোনো বড় অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রুস্তম উমেরভ শান্তি পরিকল্পনার একটি খসড়া নিয়ে আলোচনা করলেও চূড়ান্ত কোনো সমাধানে পৌঁছাতে পারেননি। অন্যদিকে, রুশ উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ অভিযোগ করেছেন, ইউরোপীয় দেশগুলো রাশিয়া ও আমেরিকার মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের পথে বাধা সৃষ্টি করছে।
রাশিয়া বারবার দাবি করছে, তাদের ইউরোপ বা ন্যাটোতে হামলা চালানোর কোনো পরিকল্পনা নেই। প্রয়োজনে এ বিষয়ে লিখিত দিতেও প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন পুতিন। তবে মাঠের চিত্র ভিন্ন কথা বলছে। ওদেসার পাশাপাশি রাজধানী কিয়েভেও মঙ্গলবার ভোরে বিমান হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। যদিও ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেই হুমকি মোকাবিলায় সক্ষম হয়েছে বলে দাবি করেছে কিয়েভ প্রশাসন।
যুদ্ধের এই পরিস্থিতিতে ওদেসার ভবিষ্যৎ এবং বিশ্ববাজারে খাদ্যশস্যের সরবরাহ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
সূত্র: বিবিসি

