ডেস্ক রিপোর্ট, News BD 24 Live:
ইরানে সম্ভাব্য সামরিক হামলার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে ওয়াশিংটনের সিচুয়েশন রুমে গভীর রাত পর্যন্ত বৈঠক চলল। পেন্টাগন ও জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ধরেই নিয়েছিলেন যে, ইরানে হামলার নির্দেশ এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরানে চলমান বিক্ষোভ দমন ও প্রকাশ্য মৃত্যুদণ্ডের গ্রাফিক ভিডিও দেখে মানসিকভাবে বেশ বিচলিত ছিলেন। বিশেষ করে ইরানি বিক্ষোভকারী এরফান সোলতানি এবং আরও অনেকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর হোয়াইট হাউসে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি করে। কিন্তু নাটকীয়ভাবে পরিস্থিতির মোড় ঘুরে যায় পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায়।
ইরান সরকারের কঠোর দমনপীড়নের জবাবে ট্রাম্প প্রাথমিকভাবে সামরিক পদক্ষেপের দিকেই ঝুঁকছিলেন। বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেছিলেন সাহায্য আসছে। এমনকি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম বিমানঘাঁটি থেকে অপ্রয়োজনীয় কর্মীদের সরিয়ে নেয়ার মতো সতর্কতামূলক ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়েছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ইরানি কর্তৃপক্ষের একটি বার্তা এবং মার্কিন মিত্রদের কূটনৈতিক তৎপরতা যুদ্ধের দামামা কিছুটা থামিয়ে দেয়।
হোয়াইট হাউস সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, ট্রাম্পকে জানানো হয় ইরান মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা থেকে সাময়িকভাবে সরে এসেছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানান, প্রেসিডেন্ট এবং তাঁর দল ইরানি সরকারকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, হত্যাযজ্ঞ চলতে থাকলে তার ফলাফল হবে ভয়াবহ। তবে ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের পেছনে কেবল ইরানের বার্তা নয়, বরং ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর কূটনৈতিক চাপও বড় ভূমিকা রেখেছে।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু টেলিফোনে ট্রাম্পকে আপাতত হামলা না করার পরামর্শ দেন। ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ধারণা, দীর্ঘমেয়াদী অভিযান ছাড়া ইরানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর পতন সম্ভব নয়। এছাড়া গত বছরের সংঘাতে ইরানের মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেমের কার্যকারিতা নিয়েও তেল আবিবের উদ্বেগ রয়েছে। অন্যদিকে সৌদি আরব ও কাতারসহ উপসাগরীয় মিত্ররা যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছে, তারা এই মুহূর্তে নতুন কোনো যুদ্ধ চায় না। তারা বরং কূটনৈতিক উপায়ে ইরানকে হত্যাযজ্ঞ বন্ধে বাধ্য করার পক্ষে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন বর্তমানে ওয়েট অ্যান্ড সি বা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ নীতি অবলম্বন করছে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে ইরান ইরাক ও সিরিয়ায় থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা আঘাত হানতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্প কোনো দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধে জড়াতে চাইছেন না। তবে পেন্টাগন জানিয়েছে, ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপসহ মার্কিন সামরিক বহর ওই অঞ্চলে মোতায়েন রয়েছে এবং প্রেসিডেন্টের নির্দেশ পাওয়া মাত্রই তারা যেকোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।
আপাতত ইরানের মৃত্যুদণ্ড স্থগিতের ঘোষণাকে ট্রাম্প নিজের কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লিখেছেন, এটি একটি ভালো খবর, আশা করি এটি অব্যাহত থাকবে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, ইরানের এই পিছু হটা সাময়িক কৌশল হতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসনও সব অপশন টেবিলে খোলা রেখেছে। মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে যুদ্ধের মেঘ কাটল কি না, তা আগামী কয়েক দিনের ঘটনাপ্রবাহই বলে দেবে।
সোর্স: সিএনএন (CNN)

