ডেস্ক রিপোর্ট | নিউজবিডি২৪
আমরা প্রতিদিনের প্রয়োজনে যে ইন্টারনেট ব্যবহার করি—তা হোক গুগল, ফেসবুক, ইউটিউব কিংবা কোনো সংবাদমাধ্যম—তা আসলে বিশাল ইন্টারনেট জগতের অতি ক্ষুদ্র একটি অংশ মাত্র। প্রযুক্তিবিদদের মতে, সাধারণ মানুষের ব্যবহারযোগ্য এই অংশটি পুরো ইন্টারনেটের মাত্র ৪ থেকে ৫ শতাংশ।
একে বলা হয় ‘সারফেস ওয়েব’। তবে পানির নিচে বিশাল হিমশৈল বা আইসবার্গের মতো ইন্টারনেটের বাকি বিশাল অংশটি লোকচক্ষুর অন্তরালে রয়ে গেছে। এই লুকানো অংশের নাম ‘ডিপ ওয়েব’, আর এরই সবচেয়ে গভীর ও রহস্যময় স্তরটিকে বলা হয় ‘ডার্ক ওয়েব’।
ডার্ক ওয়েব সাধারণ ইন্টারনেটের মতো কোনো উন্মুক্ত জায়গা নয়। ক্রোম, ফায়ারফক্স বা সাফারির মতো সাধারণ ব্রাউজার দিয়ে এই জগতে প্রবেশ করা সম্ভব নয়। এমনকি গুগল বা বিং-এর মতো সার্চ ইঞ্জিনগুলোও এখানকার তথ্য খুঁজে পায় না বা ইনডেক্স করে না। এই অদৃশ্য নেটওয়ার্কে প্রবেশ করতে প্রয়োজন হয় বিশেষ ধরনের সফটওয়্যার ও কনফিগারেশন, যার মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হলো ‘টর’ (The Onion Router) ব্রাউজার। এখানকার ওয়েবসাইটগুলোর ঠিকানা সাধারণ ডট কম (.com) বা ডট নেট (.net) এর পরিবর্তে ডট অনিয়ন (.onion) ডোমেইনে শেষ হয়।
জনমানসে একটি প্রচলিত ধারণা রয়েছে যে, ডার্ক ওয়েব মানেই অপরাধের স্বর্গরাজ্য। এই ধারণা পুরোপুরি মিথ্যে না হলেও, এটিই একমাত্র সত্য নয়। ডার্ক ওয়েবের মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। এর চরিত্র মূলত দ্বিমুখী।
একদিকে এটি সাইবার অপরাধীদের অভয়ারণ্য। অবৈধ মাদক চোরাচালান, হ্যাক করা ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক ডাটা বিক্রি, অবৈধ অস্ত্রের কারবারসহ নানা বেআইনি কার্যক্রমের হাট বসে এই অন্ধকারে। পরিচয় গোপন রাখার সুবিধা থাকায় অপরাধীরা একে নিরাপদ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে।
অন্যদিকে, ডার্ক ওয়েবের একটি ইতিবাচক ও মানবিক দিকও রয়েছে। বিশ্বের অনেক দেশে যেখানে কঠোর সেন্সরশিপ বা বাকস্বাধীনতা নেই, সেখানকার সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী এবং নির্যাতিত মানুষরা নিজেদের পরিচয় গোপন রেখে নিরাপদে যোগাযোগ করতে এই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করেন।
তথ্য পাচার বা হুইসেল ব্লোয়ারদের জন্যও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
মূলত, ডার্ক ওয়েবের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো গোপনীয়তা। এখানে ব্যবহারকারী এবং ওয়েবসাইট—উভয়ের পরিচয়ই গোপন থাকে। তাই এটি যেমন অপরাধীদের জন্য ঢাল, তেমনি মুক্তিকামী মানুষের জন্য এক নিরাপদ আশ্রয়স্থল। সংক্ষেপে বলতে গেলে, ডার্ক ওয়েব হলো ইন্টারনেটের এমন এক লুকানো স্তর, যা একই সাথে রহস্যময়, ঝুঁকিপূর্ণ এবং বিশেষ প্রয়োজনে অপরিহার্য।
প্রযুক্তি যত এগোচ্ছে, এই অদৃশ্য জগত সম্পর্কে মানুষের কৌতূহলও তত বাড়ছে। তবে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক জ্ঞান ও সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়া এই জগতে প্রবেশ করা সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকির কারণ হতে পারে।

