সর্বশেষ
ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬

আসন সমঝোতার জট, অবিশ্বাস ও পাল্টাপাল্টি অবস্থান ইসলামপন্থি ১১ দলীয় জোটে ভাঙনের শঙ্কা।

Spread the love

মোঃ শাহনুর রহমান লিমন, স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকাঃ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসলামপন্থি দলগুলোর বহুল আলোচিত ১১ দলীয় জোটে ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে টানাপড়েন ও অনিশ্চয়তা। আসন সমঝোতা নিয়ে অচলাবস্থা, একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের অভিযোগ এবং পারস্পরিক অবিশ্বাসে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন এই জোট এখন কার্যত চাপের মুখে।বিশেষ করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সঙ্গে জামায়াতের বোঝাপড়া নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা জোটের ঐক্যকে বড় চ্যালেঞ্জে ফেলেছে। সংবাদ সম্মেলন স্থগিত, পরস্পরবিরোধী ব্যাখ্যা এবং নতুন রাজনৈতিক জোট গঠনের ইঙ্গিত সব মিলিয়ে নির্বাচনপূর্ব মুহূর্তে ইসলামপন্থি রাজনীতিতে অনিশ্চয়তা আরও ঘনীভূত হয়েছে।

জোট সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রত্যাশিত আসন সংখ্যা নিয়ে সমঝোতা না হওয়া এবং সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ায় প্রাধান্য না পাওয়ার অভিযোগে একাধিক শরিক দলে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে আসন ভাগাভাগি নিয়ে মতবিরোধ রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। সর্বশেষ যুক্ত হওয়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), এলডিপি ও এবি পার্টি ছাড়া জোটের প্রায় সব শরিক দলেই কমবেশি অসন্তোষ বিরাজ করছে।এ অবস্থায় জোটের বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে পূর্বনির্ধারিত সংবাদ সম্মেলন হঠাৎ স্থগিত করা হলে গুঞ্জন আরও বাড়ে।

কেউ কেউ দাবি করেন, ইসলামী আন্দোলনের অনুরোধেই সংবাদ সম্মেলন স্থগিত হয়েছে; আবার গুঞ্জন ওঠে দলটি জোট ছাড়তে পারে। যদিও পরপর দুটি বিবৃতিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এসব দাবি নাকচ করে দেয় এবং জানায় ‘ওয়ান বক্স’ নীতিতে তারা এখনও অটল রয়েছে।ইসলামী আন্দোলনের নেতারা দাবি করেছেন, তারা শতাধিক আসনে নির্বাচন করতে চাইলেও আলোচনার পর সর্বশেষ ৫০টির বেশি আসনের দাবি জানানো হয়। বিপরীতে জামায়াত সর্বোচ্চ ৪০টি আসনে ছাড় দিতে চায়। এমনকি যেসব আসনে ছাড় দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, সেখানেও জামায়াতের প্রার্থীদের তৎপরতা রয়েছে যা মেনে নেওয়া কঠিন বলে মন্তব্য করেছেন দলটির একাধিক নেতা।

অন্যদিকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসও জামায়াতের সঙ্গে আসন সমঝোতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলেও তারা কিছুটা নমনীয় অবস্থানে রয়েছে। ঐক্য বজায় রাখার স্বার্থে প্রয়োজনে আসন কম পেলেও সমঝোতায় আগ্রহী বলে জানিয়েছেন দলটির নেতারা।ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতারা স্পষ্ট করে বলেছেন, তারা জোট ভাঙতে চান না; তবে চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত বা অবহেলামূলক আচরণ মেনে নেওয়ার রাজনীতি তাদের নয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্মানজনক সমাধান না এলে বিকল্প পথ ভাবতে বাধ্য হবেন বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন দলটির মুখপাত্র।

সব মিলিয়ে, আসন্ন নির্বাচনের আগে ইসলামপন্থি ১১ দলীয় জোট টিকে থাকবে নাকি নতুন সমীকরণে ভাঙবে সে প্রশ্নের উত্তর এখনো অনিশ্চিত। আগামী কয়েক দিনের সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে এই জোটের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *