সর্বশেষ
ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬

অর্থনীতির চাপের মুখে আস্থা ফেরাতে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরকারের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক।

Spread the love

মোঃ শাহনুর রহমান লিমন, স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকাঃ

ভঙ্গুর সামষ্টিক অর্থনীতি, বিনিয়োগে স্থবিরতা ও বাজারে অনিশ্চয়তার মধ্যে ব্যবসায়ীদের আস্থা পুনরুদ্ধার এখন নতুন সরকারের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। মূল্যস্ফীতির চাপ, ডলার-সংকট, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা, এলডিসি উত্তরণের সময়সীমা এবং যুক্তরাষ্ট্র এর শুল্ক অনিশ্চয়তা মিলিয়ে দেশের বাণিজ্য পরিবেশ বহুমুখী ঝুঁকির মুখে। এই পরিস্থিতিতে নীতিগত স্থিতিশীলতার স্পষ্ট বার্তা দিতে আজ ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বৈঠকে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, রপ্তানি-আমদানি প্রবণতা, বাজার ব্যবস্থাপনা ও বৈদেশিক বাণিজ্যের ঝুঁকি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। উপস্থিত থাকবেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, সচিবসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সরকারের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের মতামত নিয়ে বাস্তবসম্মত নীতিগত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর চেষ্টা থাকবে।তৈরি পোশাক শিল্পের সংগঠন বিজিএমইএ-এর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এ বৈঠকটি গুরুত্বপূর্ণ।

এখানে দেশের অর্থনীতি ও বাণিজ্যের সার্বিক পরিস্থিতি আলোচনায় আসবে এবং বিশেষ গুরুত্ব পাবে যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক ইস্যু। তাঁর মতে, শুল্ক কাঠামোর অনিশ্চয়তা এখন দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের সবচেয়ে বড় বাধা; ব্র্যান্ড-ক্রেতারা নিশ্চিত হার না পেলে দর নির্ধারণ করাও কঠিন হয়ে পড়ে।এদিকে বাজারে পণ্যের সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকলেও কিছু পণ্যের দাম অস্বাভাবিক বেড়েছে, যা সাধারণ মানুষের কষ্ট বাড়াচ্ছে এবং মূল্যস্ফীতিতে নতুন চাপ তৈরি করছে। এ বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হবে। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বাজার যেন নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে না যায় সে বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে।

কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে গুণগত পরিবর্তন আনতে কিছুটা সময় লাগলেও ইতিবাচক ফল আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।অন্যদিকে দীর্ঘ মূল্যায়ন শেষে জাতিসংঘ সিদ্ধান্ত দিয়েছে, ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বর বাংলাদেশ এলডিসি তালিকা থেকে বের হবে। হাতে সময় আছে মাত্র কয়েক মাস। উত্তরণ হলে দেশের রপ্তানি খাতে, বিশেষ করে ওষুধশিল্পে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। এ কারণে ব্যবসায়ীরা উত্তরণের সময়সীমা ৩ থেকে ৬ বছর পিছিয়ে দেওয়ার দাবি তুলেছেন এবং সে বিষয়ে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির কাছে আবেদন করা হয়েছে।

এই বিষয়টিও বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে রয়েছে।এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের সই করা বাণিজ্য চুক্তির ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়েও আলোচনা হবে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে এখতিয়ারে বাংলাদেশের সঙ্গে পাল্টা শুল্ক ব্যবস্থা করেছিলেন, তা দেশটির আদালত বাতিল করেছে বলে জানা গেছে। পরে নতুন করে দুই দফা শুল্ক আরোপের আলোচনা উঠলেও বিষয়টি এখনো স্পষ্ট নয়, ফলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।তৈরি পোশাকের নিট পণ্য উৎপাদক-রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিকেএমইএ-এর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, অসম চুক্তি নিয়ে আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান খুঁজতে হবে।

শুল্ক কমলে রপ্তানিকারকরা সুবিধা পেলেও রাষ্ট্রের স্বার্থ কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হবে, সেটিও বিবেচনায় নিতে হবে এ কারণেই আজকের বৈঠককে তারা গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *